“তেল উৎপাদন ভুলে যান!” — আরব দেশগুলোকে ধ্বংসাত্মক হুঁশিয়ারি ইরানের

ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার চরম উত্তেজনার মধ্যেই উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশগুলোকে কড়া বার্তা দিয়েছে তেহরান। মঙ্গলবার রেভোল্যুশনারি গার্ডের অ্যারোস্পেস প্রধান জেনারেল মজিদ মুসাভি স্পষ্ট জানিয়েছেন, আমেরিকার সঙ্গে পুনরায় যুদ্ধ শুরু হলে এই অঞ্চলের তেল শিল্প সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়া হবে। ইরানের ওপর হামলা চালাতে যদি কোনো প্রতিবেশী দেশ আমেরিকাকে নিজেদের ভূমি বা ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেয়, তবে তাদের তেল উৎপাদন ও মজুত চিরতরে বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে দেশটি।
আঞ্চলিক জ্বালানি নিরাপত্তা ও সামরিক প্রভাব
সাম্প্রতিক সংঘাতের ধাক্কায় কুয়েত, ওমান, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলো চরম ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। ইতিপূর্বেও সৌদি আরবের আরামকোর মতো বৃহৎ তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান এই অঞ্চলে নিজের আধিপত্য বা ‘সুপারবস’ অবস্থান প্রমাণের জন্য তেল অবকাঠামোকে প্রধান লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বেছে নিয়েছে। প্রতিবেশী দেশগুলো আমেরিকার ওপর নির্ভরশীল হলেও ইরানের পাল্টাহামলা ঠেকানোর মতো সক্ষমতা তাদের নেই বললেই চলে।
ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি বৃদ্ধির ঘোষণা ও অনিশ্চয়তা
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পাকিস্তানের অনুরোধে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছেন। তবে হোয়াইট হাউস স্পষ্ট করেছে যে, তেহরান থেকে একটি সমন্বিত প্রস্তাব না আসা পর্যন্ত ইরানি বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌবাহিনীর কঠোর অবরোধ অব্যাহত থাকবে। দুই সপ্তাহের এই যুদ্ধবিরতি বুধবার শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত তা কার্যকর রাখার কথা জানিয়েছেন ট্রাম্প। যদিও ইরান পরবর্তী পর্যায়ের আলোচনায় বসার বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি।
এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে ইতিমধ্যে ইরান, লেবানন ও ইসরায়েলসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আলোচনার মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট ফলাফল আসার নিশ্চয়তা পেলেই কেবল তারা পরবর্তী সংলাপে অংশ নেবে। এই অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি বাজার ও বৈশ্বিক তেল সরবরাহ ব্যবস্থা এখন চরম ঝুঁকির মুখে রয়েছে।
এক ঝলকে
- আমেরিকার সাথে পুনরায় যুদ্ধ শুরু হলে মধ্যপ্রাচ্যের তেল শিল্প ধ্বংস করার হুমকি দিয়েছে ইরান।
- পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে সম্মত হয়েছেন।
- ইরানের দাবি অনুযায়ী, হামলা চালানোর জন্য প্রতিবেশী দেশগুলো ভূমি বরাদ্দ দিলে তেল খনিগুলো লক্ষ্যবস্তু হবে।
- যুদ্ধবিরতি চললেও ইরানি বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধ ও সামরিক নজরদারি জারি রয়েছে।