লেন্সকার্টের পোশাক বিধি নিয়ে তুঙ্গে বিতর্ক, হিন্দু রীতির অবমাননার অভিযোগে তোলপাড় দেশ

জনপ্রিয় চশমা প্রস্তুতকারক সংস্থা লেন্সকার্টের নতুন পোশাক বিধিকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, সংস্থাটি তাদের কর্মীদের টিপ, সিঁদুর, রক্ষা বন্ধন, তুলসী মালা এবং রুদ্রাক্ষের মতো হিন্দুধর্মের ঐতিহ্যবাহী প্রতীক ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। অথচ একই সাথে হিজাব পরার অনুমতি বহাল রাখা হয়েছে। এই বৈষম্যমূলক নীতির খবর ছড়িয়ে পড়তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রশ্নে সংস্থাটি বড়সড় সমালোচনার মুখে পড়েছে।
নাজিয়া খানের প্রতিবাদ ও পাকিস্তানের হুমকি
এই ঘটনার প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও বিজেপি নেত্রী নাজিয়া এলাহী খান। তিনি সরাসরি লেন্সকার্টের অফিসে গিয়ে হিন্দু কর্মচারীদের তিলক ও গেরুয়া বস্ত্র পরিয়ে দেন। নাজিয়া খানের এই পদক্ষেপের পর সীমান্ত ওপার থেকে ধেয়ে এসেছে প্রাণনাশের হুমকি। পাকিস্তানের একটি চরমপন্থী গোষ্ঠী ভিডিও বার্তার মাধ্যমে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে একটি ইসলামিক রাষ্ট্রে পরিণত করার ঘোষণা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই ভিডিওটি শেয়ার করে নাজিয়া খান প্রশাসন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
ধর্মীয় মেরুকরণ ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব
বিশ্লেষকদের মতে, বেসরকারি সংস্থায় এ ধরনের নির্দিষ্ট ধর্মীয় আচারের ওপর নিষেধাজ্ঞা সামাজিক অস্থিরতা বাড়িয়ে তুলছে। পোশাক বিধির আড়ালে কোনো বিশেষ ধর্মীয় এজেন্ডা কাজ করছে কি না, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে সন্দেহ দানা বাঁধছে। বিশেষ করে লেন্সকার্টের মতো একটি বহুজাতিক সংস্থায় এ ধরনের নীতি হিন্দু কর্মীদের মধ্যে বঞ্চনার বোধ তৈরি করেছে। এই ঘটনাটি বর্তমানে কেবল কর্মক্ষেত্রের নিয়মকানুনে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি একটি জাতীয় রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ইস্যুতে রূপ নিয়েছে যা ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও সামাজিক সম্প্রীতির ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
এক ঝলকে
- লেন্সকার্টের নতুন পোশাক বিধিতে টিপ, সিঁদুর ও রুদ্রাক্ষের মতো হিন্দু প্রতীক নিষিদ্ধ করার অভিযোগ।
- হিন্দু কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করায় আইনজীবী নাজিয়া খানকে পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠনের প্রাণনাশের হুমকি।
- ভারতকে ইসলামিক রাষ্ট্রে পরিণত করার উস্কানিমূলক বার্তার বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন বিজেপি নেত্রী।
- বেসরকারি সংস্থায় ধর্মীয় বৈষম্য নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ ও বিতর্কের সৃষ্টি।