প্রেমিকের বিয়েতে প্রেমিকার হানা, কনের চুল কেটে চোখে ফেভিকুইক ঢালল উন্মত্ত তরুণী!

বিহারের মোরা তালাব গ্রামে একটি মর্মান্তিক ও নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটেছে। প্রেমিকের অন্য জায়গায় বিয়ে করার সিদ্ধান্তে ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁর নববিবাহিত স্ত্রীর ওপর প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছে প্রেমিকা। মঙ্গলবার গভীর রাতে ঘটা এই ঘটনায় গুরুতর জখম হয়েছেন নতুন কনে। অভিযোগ উঠেছে, ওই তরুণী প্রথমে কনের চুল কেটে দেয় এবং এরপর অত্যন্ত নৃশংসভাবে তাঁর চোখের ভেতরে সুপার গ্লু বা ফেভিকুইক ঢেলে দেয়। এই অভাবনীয় ঘটনার আকস্মিকতায় পুরো গ্রাম জুড়ে এখন তীব্র উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
প্রতিশোধের নেশায় উন্মত্ত হামলা
জানা গেছে, অভিযুক্ত তরুণী বরের বোনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হওয়ার সুযোগে তাঁদের বাড়িতে প্রবেশের অনুমতি পায়। বিয়ের ধকল কাটিয়ে বাড়ির সদস্যরা যখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, তখনই সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে নবদম্পতির শোবার ঘরে ঢুকে পড়ে সে। যন্ত্রণায় কনের আর্তনাদ শুনে পরিবারের লোকজন ছুটে এলে অভিযুক্ত পালানোর চেষ্টা করে, কিন্তু তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলা হয়। উত্তেজিত জনতা অভিযুক্ত তরুণীকে সারারাত আটকে রেখে মারধর করে এবং পরে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
দৃষ্টিশক্তি হারানোর আশঙ্কা
চিকিৎসকদের মতে, কনের চোখের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। চোখে শক্তিশালী আঠা ঢেলে দেওয়ার কারণে তাঁর দৃষ্টিশক্তি চিরতরে চলে যাওয়ার প্রবল ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল হলেও চোখের ক্ষত নিয়ে উদ্বেগ কাটেনি। পুলিশ জানিয়েছে, প্রেমিকের ‘প্রতারণা’ সহ্য করতে না পেরে প্রতিহিংসা থেকেই এমন চরম পথ বেছে নিয়েছে ওই তরুণী। এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে বর্তমানে গ্রামে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এক ঝলকে
- বিহারে প্রেমিকের বিয়েতে প্রতিহিংসা পরায়ণ হয়ে কনের ওপর নৃশংস হামলা প্রেমিকার।
- কনের চুল কাটার পর তাঁর চোখের ভেতর ফেভিকুইক ঢেলে দেয় অভিযুক্ত তরুণী।
- গুরুতর আহত কনে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, তাঁর দৃষ্টিশক্তি হারানোর আশঙ্কা প্রবল।
- অভিযুক্ত তরুণীকে আটক করে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।