মন্দির কি সরকারি নিয়ন্ত্রণে আসবে? সুপ্রিম কোর্টে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করল মোদী সরকার

মন্দির কি সরকারি নিয়ন্ত্রণে আসবে? সুপ্রিম কোর্টে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করল মোদী সরকার

মন্দির পরিচালনায় সরকারি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কের অবসান ঘটাতে সুপ্রিম কোর্টে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে কেন্দ্র। ৯ বিচারপতির বৃহত্তর বেঞ্চে ‘আস্থা বনাম মৌলিক অধিকার’ বিষয়ক শুনানিতে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, সরকার কোনোভাবেই মন্দিরের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চায় না। মূলত সংবিধানের ২৫ নম্বর অনুচ্ছেদের ব্যাখ্যা দিতে গিয়েই ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে রাষ্ট্রের ভূমিকার প্রসঙ্গটি উঠে আসে, যাকে সরকারি হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখার অবকাশ নেই বলে কেন্দ্র দাবি করেছে।

সংবিধানের নিরপেক্ষ ব্যাখ্যা

শুনানি চলাকালীন বিচারপতিরা প্রশ্ন তোলেন যে, মন্দিরের নিয়ন্ত্রণ না নেওয়ার এই অবস্থান কি কেবল হিন্দু ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য? জবাবে কেন্দ্র জানায়, সংবিধানের ব্যাখ্যা কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের চশমায় দেখা উচিত নয়। হিন্দু, মুসলিম বা খ্রিস্টান—পরিচয় নির্বিশেষে দেশের সকল নাগরিকের জন্য সংবিধানের বিধান সমানভাবে কার্যকর। বিচারপতি বাগচীও এই বিষয়ে একমত পোষণ করে জানান যে, আইনি ব্যাখ্যা হওয়া উচিত একজন সাধারণ নাগরিকের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে।

বর্তমান পরিস্থিতি ও আইনি প্রেক্ষাপট

বর্তমানে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে গুরুত্বপূর্ণ মন্দিরগুলো সরকারি বোর্ড বা ট্রাস্টের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। কেরালায় দেবস্বম বোর্ড এবং তামিলনাড়ুর হিন্দু ধর্মীয় ও চ্যারিটেবল এনডাওমেন্ট বিভাগ হাজার হাজার মন্দির তদারকি করে। এছাড়া তিরুপতি বালাজি ও উত্তরাখণ্ডের চারধামের মতো তীর্থস্থানগুলোও নির্দিষ্ট বোর্ড দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। কেন্দ্রের এই সাম্প্রতিক অবস্থান ভবিষ্যতে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের স্বায়ত্তশাসন রক্ষা এবং রাষ্ট্রের প্রশাসনিক সীমানা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।

এক ঝলকে

  • মন্দির পরিচালনায় কোনো সরকারি নিয়ন্ত্রণ চায় না কেন্দ্র, সুপ্রিম কোর্টে অবস্থান পরিষ্কার।
  • সংবিধানের ২৫ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক তদারকির আইনি ব্যাখ্যা দিয়েছে সরকার।
  • কোনো নির্দিষ্ট ধর্ম নয়, বরং নাগরিক অধিকারের ভিত্তিতেই এই সাংবিধানিক ব্যাখ্যা প্রযোজ্য হবে।
  • বর্তমানে কেরালা, তামিলনাড়ু ও উত্তরাখণ্ডসহ বিভিন্ন রাজ্যে সরকারি বোর্ড মন্দিরের ব্যবস্থাপনায় যুক্ত রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *