নির্বাচন ঘিরে দীর্ঘস্থায়ী ড্রাই ডের কবলে রাজ্য এবং রাজস্বে ১৪০০ কোটি টাকার বিশাল ধাক্কা!

পশ্চিমবঙ্গে লোকসভা নির্বাচনের দামামা বাজার পাশাপাশি পাল্লা দিয়ে বাড়ছে তাপমাত্রার পারদ। তবে এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই রাজ্যে মদ বিক্রির ওপর নির্বাচন কমিশনের জারি করা দীর্ঘমেয়াদী নিষেধাজ্ঞায় বড়সড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে রাজ্য সরকার। প্রথম দফার ভোট গ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকেই নিয়ম অনুযায়ী বার, রেস্তোরাঁ ও ক্লাবসহ সমস্ত মদের দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দফায় দফায় এই নিষেধাজ্ঞার জেরে পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় রাজ্যে মোট ৯.৫ দিন মদ বিক্রি বন্ধ থাকবে।
রাজস্বে বিশাল ঘাটতি ও থমকে যাওয়া অর্থনীতি
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এই দীর্ঘ সময় মদ বিক্রি বন্ধ থাকার ফলে রাজ্য সরকারের রাজকোষে প্রায় ১৪০০ কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি দেখা দেবে। শুধুমাত্র সরাসরি বিক্রয় কেন্দ্র বা অফ-শপগুলোই নয়, জেলা জুড়ে থাকা বার, পাব ও রেস্তোরাঁগুলোও এই নির্দেশের আওতায় আসায় সামগ্রিক ব্যবসায়িক মন্দা প্রকট হয়েছে। সাধারণত উৎসব বা বিশেষ ছুটির দিনে যেখানে বিক্রি বাড়ে, সেখানে নির্বাচনের এই ‘ড্রাই ডে’ সরকারি আয়ের একটি বড় উৎসকে সাময়িকভাবে স্তব্ধ করে দিয়েছে।
কর্মসংস্থানে টান ও সাধারণের ওপর প্রভাব
এই নিষেধাজ্ঞার প্রভাব কেবল সরকারের রাজস্বেই সীমাবদ্ধ নয়, এর ফলে সংকটে পড়েছেন এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত বিপুল সংখ্যক মানুষ। রাজ্যে মদ ও রেস্তোরাঁ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত প্রায় ২ থেকে ৩ লক্ষ কর্মীর রুটি-রোজগারে টান পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ সময় ব্যবসা বন্ধ থাকায় দৈনিক মজুরি ভিত্তিক কর্মচারীদের আয় কমার পাশাপাশি পরিষেবা খাতের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। প্রশাসনের কড়া নজরদারিতে প্রথম দফার ভোটের আগে থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে এখন শুনশান মদের দোকান ও পাবগুলো।
এক ঝলকে
- লোকসভা ভোট উপলক্ষে পশ্চিমবঙ্গে দফায় দফায় মোট ৯.৫ দিন মদ বিক্রি বন্ধ থাকবে।
- দীর্ঘমেয়াদী ‘ড্রাই ডে’-র কারণে রাজ্যের প্রায় ১৪০০ কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা।
- এই নিষেধাজ্ঞার প্রভাবে কর্মহীন হওয়ার ঝুঁকিতে প্রায় ২ থেকে ৩ লক্ষ মানুষ।
- নির্বাচনের ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকেই কার্যকর হয়েছে বার, রেস্তোরাঁ ও ক্লাব বন্ধের নির্দেশ।