EVM-এ কারচুপি রুখতে রণকৌশল কমিশনের, বুথ অফিসারদের জন্য জারি কড়া নির্দেশিকা

পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুতে বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণের ঠিক ৩৬ ঘণ্টা আগে নজিরবিহীন সতর্কতা জারি করল নির্বাচন কমিশন। ইভিএম মেশিনের বোতামে কোনো ধরনের কারচুপি বা হস্তক্ষেপ রুখতে প্রিসাইডিং অফিসারদের জন্য বিশেষ নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে। মূলত ভোটের স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং ভোটারদের বিভ্রান্তি দূর করতেই এই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কমিশন।
কারচুপি রুখতে কঠোর বিধিনিষেধ
নির্বাচন কমিশনের স্পষ্ট নির্দেশ, ব্যালট ইউনিটে থাকা কোনো প্রার্থীর বোতাম টেপ, আঠা, রং বা কোনো রাসায়নিক পদার্থ দিয়ে ঢেকে রাখা যাবে না। প্রিসাইডিং অফিসারদের দায়িত্ব নিয়ে নিশ্চিত করতে হবে যে, প্রতিটি বোতাম যেন স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান থাকে। ইভিএম-এর বোতামে সুগন্ধি বা কালি ব্যবহারের মাধ্যমে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হলে তাকে গুরুতর নির্বাচনী অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
প্রশাসনের কড়া নজরদারি
ভোট প্রক্রিয়াকে ভয়মুক্ত ও প্রভাবমুক্ত রাখতে নির্বাচন কমিশন স্থানীয় প্রশাসন ও সরকারি কর্মীদের ওপর কড়া নজরদারির নির্দেশ দিয়েছে। কোনো অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটলে প্রিসাইডিং অফিসারকে দ্রুত সেক্টর অফিসার বা রিটার্নিং অফিসারকে জানাতে হবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, ঘুষ, প্রলোভন বা বুথ দখলের মতো কোনো ঘটনা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।
আগামীকাল ২৩ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুতে প্রথম দফার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। বাংলায় এরপর ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোট এবং ৪ মে ফলাফল ঘোষণা করা হবে। এই কড়া নিরাপত্তার চাদরে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করাই এখন কমিশনের মূল লক্ষ্য।
এক ঝলকে
- ইভিএম মেশিনের বোতামে আঠা, টেপ বা কালি লাগানো এখন থেকে গুরুতর নির্বাচনী অপরাধ।
- প্রিসাইডিং অফিসারদের প্রতিটি বুথে বোতামের দৃশ্যমানতা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
- কারচুপির প্রমাণ মিললে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া ফৌজদারি ব্যবস্থা নেবে কমিশন।
- ২৩ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুতে প্রথম দফার ভোটগ্রহণ শুরু হতে যাচ্ছে।