অনুমতি বিতর্কে তপ্ত বাংলা, মমতার পাল্টা চা-চক্র ঘিরে তুঙ্গে রাজনৈতিক পারদ

অনুমতি বিতর্কে তপ্ত বাংলা, মমতার পাল্টা চা-চক্র ঘিরে তুঙ্গে রাজনৈতিক পারদ

নির্বাচন দোরগোড়ায়, আর ঠিক সেই মুহূর্তে নিজের খাসতালুক ভবানীপুরে প্রচার করতে গিয়ে মেজাজ হারালেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার ভবানীপুরের কলিন্স লেনে একটি জনসভার অনুমতি না পাওয়ায় সরাসরি নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বৈষম্যের অভিযোগ তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, প্রধানমন্ত্রী আবেদন করলে মাত্র ৬ ঘণ্টার মধ্যে সবুজ সংকেত মেলে, অথচ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষেত্রে প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি করা হচ্ছে। বাধা পেয়েও দমে না গিয়ে মেঠো পথেই জনসংযোগের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন তিনি।

প্রতিবাদ ও রাজপথে চা-চক্র

সভা করার প্রশাসনিক অনুমতি না মিললেও পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী কলিন্স লেনে পৌঁছে যান তৃণমূল সুপ্রিমো। কোনো প্রথাগত মঞ্চ বা মাইক ছাড়াই রাস্তার ধারে চেয়ার পেতে বসে দলীয় কর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। এই অভিনব ‘চা-চক্র’ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি বুঝিয়ে দেন, বিধিনিষেধ দিয়ে তাঁর জনসংযোগ আটকানো সম্ভব নয়। এই সময় এলাকার মহিলাদের আবেগে ভাসতে দেখা যায়, যা প্রচারের আবহে এক অন্য মাত্রা যোগ করেছে।

কমিশনের ব্যাখ্যা ও সংঘাতের প্রভাব

অন্যদিকে, মমতার অভিযোগের প্রেক্ষিতে পাল্টা সাফাই দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তাদের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী বা তাঁর দল ‘সুবিধা’ অ্যাপের মাধ্যমে সঠিক নিয়মে কোনো আবেদনই জমা দেয়নি। বরং একবার আবেদন করার পর তা ডিলিট করে দেওয়া হয়েছিল বলে কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। প্রশাসনিক এই টানাপোড়েনের ফলে ভবানীপুর কেন্দ্রে রাজনৈতিক উত্তাপ বহুগুণ বেড়ে গিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাতকে হাতিয়ার করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভোটারদের মধ্যে ‘বঞ্চনার’ আবেগ উসকে দিতে চাইছেন, যা আসন্ন নির্বাচনে মেরুকরণের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা নিতে পারে।

এক ঝলকে

  • ভবানীপুরের কলিন্স লেনে সভার অনুমতি না পাওয়ায় নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
  • প্রধানমন্ত্রীর প্রচারের সঙ্গে নিজের প্রচারের তুলনা টেনে প্রশাসনিক বৈষম্যের অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর।
  • সভা বাতিল হলেও ওই এলাকায় গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে বসে রাস্তার ধারেই সারলেন ‘চা-চক্র’ ও জনসংযোগ।
  • সঠিক পদ্ধতিতে আবেদন না করার পাল্টা যুক্তি দিয়ে অভিযোগ অস্বীকার করেছে নির্বাচন কমিশন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *