ভোটের মুখে উত্তাল বাংলা, দাগি অপরাধীদের ধরপাকড় ও মদ বিক্রিতে কড়া নিষেধাজ্ঞা!

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণের ঠিক আগের মুহূর্তে রাজ্যজুড়ে ব্যাপক ধরপাকড় শুরু করেছে পুলিশ। সোমবার ও মঙ্গলবার টানা অভিযানে কোচবিহার, মালদা, মুর্শিদাবাদ এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকে মোট ১৩৫ জন দাগি অপরাধীকে প্রতিরোধমূলক গ্রেফতার (প্রিভেন্টিভ অ্যারেস্ট) করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের কড়া নির্দেশে পুলিশ এই পদক্ষেপ নিয়েছে যাতে সাধারণ মানুষ কোনো ভয়ভীতি ছাড়াই ভোট দিতে পারেন। কলকাতা পুলিশ এলাকাতেও সোমবার ও মঙ্গলবার রাতে অভিযান চালিয়ে কার্তিক সোনকর ওরফে খরগোশ সহ বেশ কয়েকজন কুখ্যাত দুষ্কৃতীকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
শরাব বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা ও কমিশনের সতর্কতা
নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ রাখতে ভোটগ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকেই সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে মদ বিক্রির ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন লক্ষ্য করেছে যে, গত বছরের তুলনায় চলতি বছরের এপ্রিলে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পানীয় নিগম লিমিটেডের ডিপো থেকে খুচরা বিক্রেতাদের মাধ্যমে মদ কেনার হার অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। এই প্রবণতা ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে কমিশন। বিশেষ করে সংবেদনশীল হিসেবে চিহ্নিত দোকানগুলোর ওপর নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে।
নিরাপত্তা ও সম্ভাব্য প্রভাব
ভোটের ঠিক আগে দুষ্কৃতীদের এই গণ-গ্রেফতারি এবং মদের ওপর নিষেধাজ্ঞা সাধারণ ভোটারদের মধ্যে স্বস্তি ফেরাতে সাহায্য করবে বলে মনে করা হচ্ছে। পুলিশের এই সক্রিয় ভূমিকা এলাকায় উত্তেজনার পরিবেশ কমিয়ে শান্তি বজায় রাখতে সহায়ক হবে। নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, কোনোভাবেই পেশিশক্তি বা নেশাজাতীয় দ্রব্যের মাধ্যমে জনমত প্রভাবিত হতে দেওয়া হবে না। এই কড়াকড়ির ফলে প্রথম দফার নির্বাচনে অশান্তির ঝুঁকি অনেকটাই কমবে এবং ভোটারদের উপস্থিতিও ইতিবাচক হতে পারে।
এক ঝলকে
- নির্বাচনের আগে কোচবিহার, মালদা সহ বিভিন্ন জেলা থেকে ১৩৫ জন দাগি অপরাধীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
- কলকাতার কুখ্যাত দুষ্কৃতী কার্তিক সোনকর সহ বেশ কয়েকজন কুখ্যাত অপরাধী পুলিশের জালে ধরা পড়েছে।
- ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে মদের বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে এবং অস্বাভাবিক বিক্রি নিয়ে সতর্ক রয়েছে কমিশন।
- অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে রাজ্যজুড়ে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।