ভোটের মুখে বঙ্গে অমিত শাহের তুরুপের তাস ইউসিসি, চার বিয়ে ইস্যুতে শুরু তীব্র রাজনৈতিক লড়াই!

চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনের আবহে বাংলার রাজনৈতিক ময়দানে নতুন বিতর্ক উসকে দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এবার তাঁর নিশানায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউনিফর্ম সিভিল কোড (UCC)। একটি নির্বাচনী জনসভা থেকে শাহ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, একটি দেশে দুটি পৃথক আইন চলতে পারে না। বিশেষ করে ‘চার বিয়ে’ প্রথা বন্ধ করা এবং নারী অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিজেপি সরকার যে অনড়, তা তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে। ভোটের ঠিক আগে এই স্পর্শকাতর ইস্যু নিয়ে শাহের মন্তব্য বাংলার রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
পাল্টা আক্রমণে ঘাসফুল শিবির
অমিত শাহের এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ময়দানে নেমেছে তৃণমূল কংগ্রেস। রাজ্যের শাসক দলের দাবি, উন্নয়নের ইস্যু থেকে সাধারণ মানুষের নজর ঘোরাতেই নির্বাচনের মুখে বিভাজনের রাজনীতি করছে গেরুয়া শিবির। তৃণমূলের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, ভারত বৈচিত্র্যের দেশ এবং এখানে প্রত্যেকের নিজস্ব ধর্মীয় ও সামাজিক রীতি পালনের পূর্ণ অধিকার রয়েছে। বিজেপির এই পদক্ষেপকে একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে কোণঠাসা করার প্রচেষ্টা হিসেবেই দেখছে তারা।
ভোটের সমীকরণে সম্ভাব্য প্রভাব
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে ইউনিফর্ম সিভিল কোড বা ইউসিসি-র বিষয়টি সামনে আনা বিজেপির এক সুপরিকল্পিত কৌশল। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন হিন্দু ভোটারদের সংহত করার চেষ্টা চলছে, তেমনই নারী অধিকার ও সামাজিক সাম্যের বার্তা দিয়ে শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণির সমর্থন পাওয়ার লক্ষ্যও রয়েছে কেন্দ্রের। অন্যদিকে, বিরোধীরা এই ইস্যুকে ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত এবং মৌলিক অধিকারে হস্তক্ষেপ হিসেবে প্রচার করে পাল্টা জনমত তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে। ফলে বাংলার ভোটযুদ্ধে ইউসিসি এখন অন্যতম প্রধান চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এক ঝলকে
- নির্বাচনের মুখে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউসিসি দ্রুত কার্যকর করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
- ‘এক দেশে দুই আইন চলবে না’—এই বার্তা দিয়ে চার বিয়ে প্রথা বন্ধের মাধ্যমে নারী অধিকার রক্ষার দাবি তুলেছেন শাহ।
- তৃণমূল কংগ্রেস এই মন্তব্যকে বিভাজনের রাজনীতি আখ্যা দিয়ে বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের পক্ষে সওয়াল করেছে।
- রাজনৈতিক মহলের মতে, দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে এই ইস্যু বাংলার নির্বাচনী সমীকরণে বড়সড় মেরুকরণ ঘটাতে পারে।