পথ দুর্ঘটনা নয় বরং পরকীয়া প্রেমের বলি রাজমিস্ত্রি, স্ত্রীর ভয়ঙ্কর ষড়যন্ত্র ফাঁস করল পুলিশ!

পথ দুর্ঘটনা নয় বরং পরকীয়া প্রেমের বলি রাজমিস্ত্রি, স্ত্রীর ভয়ঙ্কর ষড়যন্ত্র ফাঁস করল পুলিশ!

মহীশূর জেলার সারাগুরু এলাকায় গত মাসের ১৬ তারিখে রাস্তার পাশে জাওয়ারাপ্পা নামের এক শ্রমিকের নিথর দেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। প্রাথমিক অবস্থায় স্থানীয়রা একে সাধারণ পথ দুর্ঘটনা বলে ধারণা করলেও জাওয়ারাপ্পার শরীরে থাকা আঘাতের চিহ্ন দেখে পুলিশের মনে সন্দেহের দানা বাঁধে। পরবর্তীতে জেলা এসপির নির্দেশে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়, যারা নিহতের কল ডিটেইলস এবং পারিপার্শ্বিক তথ্য যাচাই শুরু করে।

পরকীয়ার বলি গৃহকর্তা

তদন্তে উঠে আসে এক চাঞ্চল্যকর পরকীয়ার কাহিনী। পেশায় রাজমিস্ত্রি জাভারাপ্পা তাঁরই সহকর্মী সিদ্ধেশকে নিজের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে স্ত্রী অমৃতার সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। সেই পরিচয়ের সূত্র ধরে অমৃতা ও সিদ্ধেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। স্বামী কাজে গেলে তারা প্রায়ই একান্তে সময় কাটাত। বিষয়টি জাভারাপ্পার নজরে আসার পর তিনি তাঁর স্ত্রীকে কঠোরভাবে সতর্ক করেন। কিন্তু পথের কাঁটা সরাতে স্ত্রী ও তাঁর প্রেমিক মিলে জাভারাপ্পাকে চিরতরে সরিয়ে দেওয়ার নৃশংস পরিকল্পনা করে।

দুর্ঘটনার নাটক ও পুলিশের জালে অভিযুক্তরা

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘটনার দিন সিদ্ধেশ জাভারাপ্পাকে মদ্যপানের প্রলোভন দেখিয়ে নিজের গাড়িতে করে নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে মদ্যপ অবস্থায় জাওয়ারাপ্পাকে আক্রমণ করে এবং শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। খুনের পর ঘটনাটিকে স্রেফ একটি দুর্ঘটনা হিসেবে প্রমাণ করতে লাশটি রাস্তার পাশে ফেলে দিয়ে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত। তবে পুলিশের কল রেকর্ড বিশ্লেষণ এবং সূক্ষ্ম তদন্তে শেষ রক্ষা হয়নি। বর্তমানে অভিযুক্ত স্ত্রী অমৃতা এবং তাঁর প্রেমিক সিদ্ধেশকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে।

এক ঝলকে

  • মহীশূরে রাস্তার পাশে উদ্ধার হওয়া শ্রমিকের মৃত্যু স্রেফ দুর্ঘটনা ছিল না, বরং এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
  • স্ত্রীর সাথে সহকর্মী রাজমিস্ত্রির অবৈধ সম্পর্কের প্রতিবাদ করায় প্রাণ হারাতে হয় স্বামী জাভারাপ্পাকে।
  • মদ্যপানের সুযোগ নিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর লাশ রাস্তার পাশে ফেলে দুর্ঘটনার নাটক সাজানো হয়েছিল।
  • কল লিস্ট বিশ্লেষণ করে ঘাতক স্ত্রী ও তাঁর প্রেমিককে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *