পকেটে থাকা স্মার্টফোনই কি আপনার প্রজনন ক্ষমতার শত্রু? জানুন বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন

ডিজিটাল যুগে স্মার্টফোন এখন মানুষের শরীরের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন যে, প্যান্টের পকেটে দীর্ঘক্ষণ মোবাইল ফোন রাখার অভ্যাস পুরুষদের প্রজনন স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে মোবাইল থেকে নির্গত হওয়া তরঙ্গ সরাসরি শরীরের স্পর্শকাতর অংশের ক্ষতি করছে বলে গবেষণায় দেখা গেছে।
রেডিয়েশন ও তাপমাত্রার প্রভাব
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সমস্যার মূল কারণ দুটি—রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি রেডিয়েশন এবং অতিরিক্ত তাপমাত্রা। মোবাইল ফোন নেটওয়ার্কের জন্য যে বিদ্যুৎ-চুম্বকীয় বিকিরণ নির্গত করে, তা দীর্ঘক্ষণ জননেন্দ্রিয়ের সংস্পর্শে থাকলে বীর্যকণিকার ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এর ফলে ‘অক্সিডেটিভ স্ট্রেস’ তৈরি হয়, যা বীর্যকণিকার গুণমান ও কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়। এছাড়া সুস্থ বীর্যকণিকা উৎপাদনের জন্য শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রার চেয়ে ২-৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস কম তাপমাত্রা প্রয়োজন। পকেটে থাকা ফোনের উত্তাপ সেই অঞ্চলের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়, যা স্বাভাবিক উৎপাদন প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে।
বিশেষজ্ঞদের মত ও প্রতিকার
চিকিৎসকদের মতে, মোবাইল পকেটে রাখা ক্ষতিকর নয় মনে হলেও দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব বেশ গভীর। তবে আশার কথা হলো, যেহেতু বীর্যকণিকা প্রতি তিন মাস অন্তর নতুনভাবে তৈরি হয়, তাই অভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে এই ঝুঁকি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। চিকিৎসকরা স্মার্টফোন পকেটে রাখার বদলে ব্যাগে বা টেবিলের ওপর রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন। এছাড়া ল্যাপটপ বা মোবাইল সরাসরি শরীরের ওপর না রেখে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রাখা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন মেনে চলাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।
এক ঝলকে
- প্যান্টের পকেটে মোবাইল রাখা পুরুষদের প্রজনন ক্ষমতা ও বীর্যকণিকার গুণমান কমিয়ে দিতে পারে।
- ফোনের রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি রেডিয়েশন ডিএনএ-র ক্ষতি করে এবং অক্সিডেটিভ স্ট্রেস সৃষ্টি করে।
- ফোনের উত্তাপ শরীরের নির্দিষ্ট অংশের তাপমাত্রা বাড়িয়ে স্বাভাবিক কোষ উৎপাদন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে।
- ঝুঁকি এড়াতে ফোন পকেটে না রেখে ব্যাগ বা টেবিলে রাখা এবং মোবাইল ব্যবহারের সময় কমানোর পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।