আমার ভাইকে নির্বাচনের আগে গ্রেফতার, বদলা নেওয়ার ডাক দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়!

ব্যারাকপুরের রাজনৈতিক উত্তাপ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শ্যামনগরের জনসভা থেকে তিনি প্রকাশ্যেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, জগদ্দলের তৃণমূল প্রার্থী সোমনাথ শ্যামকে নির্বাচনের ঠিক আগেই গ্রেফতার করা হতে পারে। প্রচারের শেষ লগ্নে নেত্রীর এই বিস্ফোরক দাবি ঘিরে সরগরম হয়ে উঠেছে গোটা ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করে এই ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছেন।
রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র ও বদলার ডাক
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করেন যে, নির্বাচনের আগে তাঁর বিশ্বস্ত সৈনিক সোমনাথ শ্যামকে সরিয়ে দেওয়ার একটি নীল নকশা তৈরি হয়েছে। জনসভায় উপস্থিত সমর্থকদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে তিনি বলেন, যদি এমন কোনো ঘটনা ঘটে তবে জনগণ তার রাজনৈতিক ‘বদলা’ নেবে কি না। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই মন্তব্যের মাধ্যমে মমতা আসলে কর্মীদের মানসিক ভাবে প্রস্তুত থাকার বার্তা দিয়েছেন এবং একই সঙ্গে ভোটারদের সহানুভূতি আদায়ের কৌশল নিয়েছেন।
ভোটের ময়দানে সম্ভাব্য প্রভাব
জগদ্দলের মতো স্পর্শকাতর এলাকায় এই গ্রেফতারির আশঙ্কা নতুন কোনো সমীকরণ তৈরি করতে পারে। বিরোধী শিবিরের চাপে বা কেন্দ্রীয় সংস্থার হস্তক্ষেপে সোমনাথ শ্যাম যদি সত্যিই গ্রেফতার হন, তবে তৃণমূল কংগ্রেস একে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবে তুলে ধরে বড়সড় আন্দোলনে নামার পরিকল্পনা করছে। অন্যদিকে, এই বক্তব্যের ফলে ব্যারাকপুর মহকুমার ভোটের মেরুকরণ আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে, যা আগামী নির্বাচনী ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
এক ঝলকে
- জগদ্দলের তৃণমূল প্রার্থী সোমনাথ শ্যামকে ভোটের আগে গ্রেফতার করা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
- শ্যামনগরের সভা থেকে এই সম্ভাব্য গ্রেফতারির বিরুদ্ধে সরাসরি রাজনৈতিক বদলা নেওয়ার ডাক দিয়েছেন তিনি।
- নেত্রীর নিশানায় ছিল বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা।
- নির্বাচনের ঠিক আগে এই মন্তব্য ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের রাজনৈতিক সমীকরণকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।