রেশন দুর্নীতি মামলা: ইডি দপ্তরে হাজির নুসরাত জাহান, রক্ষাকবচ হয়ে পাশে যশ দাশগুপ্ত!

টালিউড অভিনেত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন সাংসদ নুসরাত জাহান রেশন বণ্টন দুর্নীতি মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে সোমবার কলকাতার সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে অবস্থিত এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) দপ্তরে হাজিরা দিয়েছেন। ২০২০ সালের এই কথিত দুর্নীতির তদন্তে কেন্দ্রীয় এই সংস্থা তাকে তলব করেছিল। এদিন ইডি দপ্তরে প্রবেশের সময় তার সঙ্গে ছিলেন অভিনেতা যশ দাশগুপ্ত, যিনি সংবাদমাধ্যমের ভিড় সামলে নুসরাতকে নিরাপদ দূরত্বে রাখতে সচেষ্ট ছিলেন।
তদন্তের মূলে পাচার ও অর্থ তছরুপের যোগ
মূলত পিডিএস বা জনবণ্টন ব্যবস্থার অধীনে বরাদ্দ গম এবং চালের অপব্যবহারের অভিযোগে এই তদন্ত শুরু হয়েছে। ২০২০ সালের অক্টোবর মাসে বসিরহাট থানায় দায়ের করা একটি এফআইআর-এর সূত্র ধরে ইডি এই আর্থিক দুর্নীতির তদন্তে নামে। সেই সময় বসিরহাট সীমান্ত এলাকায় বেশ কিছু ট্রাকে করে বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে পাচারের সময় সরকারি রেশন জব্দ করেছিলেন কাস্টমস কর্মকর্তারা। সেই সময় নুসরাত জাহান ছিলেন ওই এলাকার নির্বাচিত সাংসদ।
প্রভাব ও আইনি জটিলতা
তদন্তকারী সংস্থাটি এখন মূলত সেই সব আর্থিক লেনদেনের ওপর নজর দিচ্ছে, যেগুলির সঙ্গে এই পাচার চক্রের যোগসূত্র থাকতে পারে। নুসরাতের নাম তদন্তের বিভিন্ন পর্যায়ে উঠে আসায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন বলে মনে করছে ইডি। যদিও সরাসরি এখনও কোনো অভিযোগ তার বিরুদ্ধে আনা হয়নি, তবে এই হাজিরা ও জিজ্ঞাসাবাদ পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক এবং বিনোদন মহলে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। ঘটনার গুরুত্ব বিচার করলে দেখা যায়, তদন্তের অগ্রগতি নুসরাতের রাজনৈতিক ও সামাজিক ভাবমূর্তির ওপর বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে।
এক ঝলকে
- রেশন বণ্টন দুর্নীতি মামলায় সিজিও কমপ্লেক্সে ইডি-র মুখোমুখি প্রাক্তন সাংসদ নুসরাত জাহান।
- ২০২০ সালে বসিরহাট সীমান্তে ধরা পড়া রেশন পাচার মামলার সূত্র ধরে এই তলব করা হয়েছে।
- তদন্তে উঠে আসা বিভিন্ন আর্থিক লেনদেনের তথ্য যাচাই করতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে কেন্দ্রীয় সংস্থা।
- জিজ্ঞাসাবাদ চলাকালীন নুসরাতের সঙ্গে ছিলেন অভিনেতা যশ দাশগুপ্ত।