রেল খরচ দিয়ে গুজরাত থেকে ভোটার আনছে বিজেপি, কমিশনে নালিশ তৃণমূলের

২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ঠিক আগে রাজনৈতিক উত্তাপ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের অভিযোগ, নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘন করে গুজরাতের সুরাত থেকে পশ্চিমবঙ্গগামী বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করেছে বিজেপি। কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে থাকা ভারতীয় রেলকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করে ভোটার ও পরিযায়ী শ্রমিকদের ফ্রিতে রাজ্যে আনা হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। তৃণমূলের মতে, এটি সরাসরি ক্ষমতার অপব্যবহার এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপপ্রয়োগ।
তৃণমূলের অভিযোগ ও প্রমাণ
সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন এই মর্মে মুখ্য নির্বাচনী কর্মকর্তার কাছে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন। অভিযোগের সপক্ষে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিও ফুটেজও প্রমাণ হিসেবে পেশ করেছে তৃণমূল। ভিডিওগুলোতে দেখা যাচ্ছে, গেরুয়া শিবিরের কর্মীরা ‘জয় শ্রী রাম’ ও ‘ভারত মাতা কি জয়’ স্লোগান দিয়ে ট্রেনের যাত্রীদের বিদায় জানাচ্ছেন। তৃণমূলের দাবি, ভোটারদের বিনামূল্যে যাতায়াত এবং খাবারের সুবিধা দেওয়া নির্বাচনী আইন অনুযায়ী ‘ঘুষ’ বা ‘দুর্নীতিমূলক কার্যকলাপ’-এর শামিল।
কমিশনের কাছে কড়া পদক্ষেপের আর্জি
তৃণমূলের পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়েছে যে, এই ঘটনার জন্য দায়ী বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি, এই বিশেষ ট্রেন চালানোর যাবতীয় খরচ যেন সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থীদের নির্বাচনী ব্যয়ের সাথে যুক্ত করা হয়। শাসক দলের বক্তব্য, বিজেপি সুপরিকল্পিতভাবে ভোটারদের সংগঠিত করে নির্বাচনী ফলাফলকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে, যা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিপন্থী। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে ভোটের মুখে রাজ্য রাজনীতিতে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
এক ঝলকে
- গুজরাত থেকে ভোটারদের আনার জন্য বিজেপি ‘বিশেষ ট্রেন’ ব্যবহার করছে বলে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ তৃণমূলের।
- ট্রেনের যাতায়াত ও খাবারের খরচকে ভোটারদের ‘ঘুষ’ দেওয়ার সামিল বলে দাবি করা হয়েছে।
- ভিডিও প্রমাণসহ চিঠি লিখে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন।
- ট্রেনের সম্পূর্ণ খরচ সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের নির্বাচনী ব্যয়ের তালিকায় যুক্ত করার দাবি জানানো হয়েছে।