“দরগার অনুরোধেই প্রার্থী কাশেম”, আমডাঙার গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব মেটাতে মমতার বড় চাল!

আমডাঙা বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দানা বাঁধা তীব্র অসন্তোষ প্রশমনে সরাসরি ময়দানে নামলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পীরজাদা কাশেম সিদ্দিকিকে প্রার্থী করা নিয়ে দলের অন্দরে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল, তা মেটাতে আমডাঙার জনসভা থেকে কৌশলী বার্তা দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। তিনি স্পষ্ট জানান, ব্যক্তিগত ইচ্ছা নয়, বরং দরগার বিশেষ অনুরোধ রক্ষা করতেই কাশেম সিদ্দিকিকে এই আসনে প্রার্থী করা হয়েছে। বিদায়ী বিধায়ক রফিকুর রহমানের অনুগামীদের শান্ত করতে মমতার আশ্বাস, রফিকুরকে দলীয় সংগঠনে আরও গুরুত্বপূর্ণ ও সম্মানজনক পদে কাজে লাগানো হবে।
ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের ডাক ও কোন্দল নিরসন
দীর্ঘদিন ধরেই আমডাঙায় তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর বিবাদ প্রকাশ্যে আসছিল, যা কাদা ছোড়াছুড়ি থেকে হাতাহাতি পর্যন্ত গড়িয়েছে। বিক্ষুব্ধ কর্মীদের দাবি ছিল, কাশেম সিদ্দিকি বহিরাগত হওয়ায় সাধারণ মানুষের পরিষেবা পেতে সমস্যা হবে। এই প্রেক্ষাপটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কাশেমের ‘সেক্যুলার’ ভাবমূর্তি তুলে ধরে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার নির্দেশ দেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আইএসএফ এবং বাম শিবিরের ‘বহিরাগত’ তত্ত্বকে ভেস্তে দিতেই ফুরফুরা শরিফের ভাবাবেগকে হাতিয়ার করেছেন নেত্রী।
ভোটের সমীকরণ ও পীরজাদা তাস
নওশাদ সিদ্দিকির পালটা হিসেবে কাশেম সিদ্দিকিকে সামনে আনা তৃণমূলের ছাব্বিশের নির্বাচনের একটি বড় চাল বলে মনে করা হচ্ছে। একদিকে সংখ্যালঘু ভোটব্যাংক অটুট রাখা, অন্যদিকে পীরজাদা পরিবারের সদস্যকে গুরুত্ব দিয়ে ফুরফুরা শরিফের সমর্থন আদায় করাই শাসকদলের মূল লক্ষ্য। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বার্তার পর আমডাঙার রাজনৈতিক সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেয় এবং বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠী কতটা নমনীয় হয়, এখন সেটাই দেখার।
এক ঝলকে
- পীরজাদা কাশেম সিদ্দিকিকে প্রার্থী করার পেছনে দরগার অনুরোধের কথা জানালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
- টিকিট না পাওয়া বিদায়ী বিধায়ক রফিকুর রহমানকে বড় পদে বসানোর আশ্বাস দিয়ে ক্ষোভ প্রশমনের চেষ্টা।
- আমডাঙায় তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব রুখতে এবং দলের কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার কড়া বার্তা।
- আইএসএফ ও বামেদের মোকাবিলায় ফুরফুরা শরিফের ভাবাবেগকে রাজনৈতিক ঢাল হিসেবে ব্যবহার।