“কী-প্যাড ছোঁয়ার অছিলায় শ্লীলতাহানি!” নাসিক টিসিএস-এ নারী কর্মীদের ওপর যৌন হেনস্থার পাহাড়প্রমাণ অভিযোগ

নাসিকের টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস (টিসিএস) বিপিও সেন্টারে নারী কর্মীদের ওপর ভয়াবহ যৌন নিপীড়ন ও ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে কাজে যোগ দেওয়া এক নারী কর্মীর অভিযোগের ভিত্তিতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে। ওই কর্মীর দাবি, সহকর্মী পুরুষরা কেবল তাকে শারীরিক হেনস্তাই করেনি, বরং পরিকল্পিতভাবে তার ধর্মীয় অনুভূতিতেও আঘাত হেনেছে। বর্তমানে এই ঘটনায় ১২ জনেরও বেশি নারী কর্মী অভিযোগ নিয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন।
অফিস চলাকালীন যৌন হয়রানি ও লাঞ্ছনা
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, ট্রেনিং সেশন চলাকালীন সময় থেকেই এই হেনস্তার সূত্রপাত। অভিযুক্তরা কি-প্যাড ব্যবহারের অছিলায় নারী সহকর্মীদের শরীরের স্পর্শকাতর অংশে হাত দিত এবং কুৎসিত অঙ্গভঙ্গি করত। এমনকি প্রতিবাদ জানালে অভিযুক্তরা কর্ণপাত না করে বিষয়টি নিয়ে উপহাস করত। ভারতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় এই প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে দিনের পর দিন নারী কর্মীদের শারীরিক গঠন নিয়ে অশালীন মন্তব্য করা হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
ধর্মীয় বিদ্বেষ ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের ভূমিকা
শারীরিক লাঞ্ছনার পাশাপাশি অভিযুক্তরা হিন্দু দেবদেবী ও মহাকাব্য নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করে সাম্প্রদায়িক উসকানি দিত বলেও অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, সংস্থার অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার পদমর্যাদার কর্মকর্তারা অভিযোগ গ্রহণ না করে উল্টো তাদের নিরুৎসাহিত করেছেন এবং অভিযুক্তদের আড়াল করার চেষ্টা করেছেন। যদিও টিসিএস কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে যে তাদের অভ্যন্তরীণ চ্যানেলে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা পড়েনি, তবে পুলিশি তদন্তে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে।
এই নজিরবিহীন ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট নয়টি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। অপারেশনস ম্যানেজারসহ আটজন অভিযুক্তকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অপর এক অভিযুক্ত নিদা খানের আগাম জামিনের আবেদন আদালত নাকচ করে দিয়েছে। করপোরেট সংস্কৃতির অন্তরালে চলা এই গভীর নৈতিক অবক্ষয় এখন জাতীয় স্তরে আলোচনার কেন্দ্রে।
এক ঝলকে
- নাসিক টিসিএস বিপিও-তে অন্তত ১২ জন নারী কর্মীকে যৌন ও ধর্মীয়ভাবে হেনস্তার অভিযোগ।
- কি-প্যাড ব্যবহারের অছিলায় শ্লীলতাহানি এবং ধর্মীয় দেবদেবী নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্যের প্রমাণ।
- অপারেশনস ম্যানেজারসহ মোট ৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
- ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন।