ভোটের আগেই উত্তপ্ত নন্দীগ্রাম! কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে মারধরের গুরুতর অভিযোগ তৃণমূলের

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে পূর্ব মেদিনীপুরের হাইভোল্টেজ কেন্দ্র নন্দীগ্রামে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ অনুযায়ী, ভোটগ্রহণের ঠিক আগে ওই এলাকায় মোতায়েন করা কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা স্থানীয় বাসিন্দাদের ওপর অকারণে চড়াও হয়েছেন। দলের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া অভিযোগে দাবি করা হয়েছে যে, গত ২১ এপ্রিল সিআরপিএফ জওয়ানরা বিনা উস্কানিতে সাধারণ মানুষকে মারধর করেছেন, যার ফলে বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
নির্বাচন কমিশনের অবস্থান ও রাজনৈতিক বিরোধ
তৃণমূলের এই গুরুতর অভিযোগের প্রেক্ষিতে দ্রুত তদন্ত শুরু করে নির্বাচন কমিশন। তবে প্রাথমিক তদন্তের পর কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, নন্দীগ্রামে কেন্দ্রীয় বাহিনীর হাতে সাধারণ মানুষের আক্রান্ত হওয়ার কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। কমিশনের এই প্রত্যাখ্যান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। তৃণমূলের দাবি, বাহিনীর এই মারমুখী আচরণ সাধারণ ভোটারের মনে ভীতি সঞ্চার করছে এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ার ওপর মানুষের আস্থা কমিয়ে দিচ্ছে।
ভোটের ময়দানে প্রভাব
নন্দীগ্রাম আসনটি বর্তমান রাজনীতিতে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে কারণ এখান থেকে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচন কমিশনের নিয়মভঙ্গের যে অভিযোগ তৃণমূল তুলেছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তুমুল আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে এই বিতর্ক ভোটদানের হারে প্রভাব ফেলতে পারে। একদিকে যেমন নিরাপত্তার স্বার্থে কঠোর বাহিনীর প্রয়োজন, অন্যদিকে স্থানীয়দের ওপর বলপ্রয়োগের অভিযোগ ভোটারদের মধ্যে নেতিবাচক বার্তা দিতে পারে।
এক ঝলকে
- নন্দীগ্রামে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে মারধরের লিখিত অভিযোগ তৃণমূল কংগ্রেসের।
- তৃণমূলের দাবি অনুযায়ী, জওয়ানদের হামলায় বেশ কয়েকজন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি।
- অভিযোগ খতিয়ে দেখে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
- হাইভোল্টেজ কেন্দ্র নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর পুনঃনির্বাচনের আগে এই ঘটনা রাজনৈতিক অস্থিরতা বৃদ্ধি করেছে।