তদন্তে হস্তক্ষেপ করে গণতন্ত্রকে ঝুঁকির মুখে ফেললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সুপ্রিম কোর্টের নজিরবিহীন ভর্ৎসনা

পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনী আবহের মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়ে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিল দেশের শীর্ষ আদালত। কলকাতায় রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা ‘আই-প্যাক’-এর দপ্তরে কেন্দ্রীয় সংস্থা ইডির তল্লাশি অভিযানে মুখ্যমন্ত্রীর সশরীরে উপস্থিত হওয়া এবং তদন্তের মাঝপথে বাধা দেওয়ার ঘটনাকে নজিরবিহীন বলে উল্লেখ করেছে আদালত। বিচারপতি পি.কে. মিশ্র এবং এন.ভি. অঞ্জারিয়ার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছে, তদন্ত প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার এই চেষ্টা সরাসরি গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য বড় হুমকি।
তদন্তে বাধা দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রীয় বিবাদ নয়
শুনানি চলাকালীন তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বিষয়টিকে কেন্দ্র-রাজ্য বিবাদ বা যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর লড়াই হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়। তবে সুপ্রিম কোর্ট সেই যুক্তি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। আদালত পর্যবেক্ষণ করেছে যে, এটি কোনো রাজনৈতিক লড়াই নয়, বরং মুখ্যমন্ত্রীর পদে থাকা একজন ব্যক্তির তদন্তে সরাসরি হস্তক্ষেপের প্রশ্ন। বিচারপতি মিশ্র মন্তব্য করেন, ড. বি.আর. আম্বেদকরের মতো সংবিধান প্রণেতারাও হয়তো কল্পনা করেননি যে কোনো রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে তদন্তকারী সংস্থার দপ্তরে পৌঁছে কাজ আটকে দেবেন।
সাংবিধানিক বেঞ্চে যাওয়ার আবেদন নাকচ
মুখ্যমন্ত্রীর এই আচরণ পুরো শাসন ব্যবস্থাকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে বলে মনে করছে শীর্ষ আদালত। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে মামলাটি পাঁচ বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চে পাঠানোর আবেদন করেছিলেন আইনজীবী মানেকা গুরুস্বামী, কিন্তু আদালত তা খারিজ করে দেয়। আদালতের মতে, এই ঘটনায় বড় কোনো সাংবিধানিক প্রশ্ন নেই যা বৃহত্তর বেঞ্চে পাঠানোর প্রয়োজন পড়ে। ইডি কর্মকর্তাদের আবেদনের ভিত্তিতে শুরু হওয়া এই মামলার গতিপ্রকৃতি এখন জাতীয় রাজনীতিতে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।
এক ঝলকে
- আই-প্যাক দপ্তরে ইডির তল্লাশিতে মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপকে গণতন্ত্রের জন্য হুমকি বলেছে সুপ্রিম কোর্ট।
- এটি কেন্দ্র-রাজ্য বিবাদ নয় বরং একজন ব্যক্তির তদন্তে বাধা দেওয়ার ঘটনা হিসেবে দেখছে আদালত।
- মামলাটি পাঁচ বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চে পাঠানোর আবেদন নাকচ করে দিয়েছেন বিচারপতিরা।
- তদন্তের মাঝপথে মুখ্যমন্ত্রীর এমন আচরণ ব্যবস্থাকে ঝুঁকির মুখে ফেলবে বলে সতর্ক করেছে শীর্ষ আদালত।