ধর্মান্তরের সন্দেহে ছেলের গলায় জুতার মালা পরালেন বাবা!

ধর্মান্তরের সন্দেহে ছেলের গলায় জুতার মালা পরালেন বাবা!

উত্তরপ্রদেশের হাথরাস জেলার গড়উ গঢ়ী গ্রামে ধর্মীয় গোঁড়ামির এক চরম ও অমানবিক বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। নিজের বড় ছেলে ও ছেলের বউ খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত হয়েছেন—এমন সন্দেহের বশবর্তী হয়ে ৬৫ বছর বয়সী শিবরাজ সিং এক সালিশি সভার আয়োজন করেন। সেখানে প্রকাশ্য দিবালোকে নিজের সন্তান বলরাম সিং ও তাঁর স্ত্রীকে জুতার মালা পরিয়ে গ্রাম ঘোরানো হয় এবং তাঁদের সামাজিক বহিষ্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়। ৪ মে মঙ্গলবার অভিযুক্ত বাবা ও তাঁর ছোট ছেলেকে গ্রেফতার করেছে স্থানীয় পুলিশ।

ঘটনার সূত্রপাত ও পারিবারিক দ্বন্দ্ব
পেশায় মেলাকর্মী বলরাম সিং দীর্ঘকাল সপরিবারে আগ্রায় বসবাস করতেন। সম্প্রতি তিনি পৈতৃক গ্রামে ফিরে আসার পর থেকেই অশান্তির শুরু। বলরাম ও তাঁর স্ত্রী মীনাদেবী হিন্দু দেব-দেবীর সামনে হাত জোড় করতে অস্বীকার করছেন এবং প্রসাদ গ্রহণ করছেন না—এমন পর্যবেক্ষণ থেকেই বাবার মনে ধর্ম পরিবর্তনের সন্দেহ দৃঢ় হয়। সোমবার এই বিষয় নিয়ে বিতণ্ডা চরমে পৌঁছালে শিবরাজ সিং গ্রাম পঞ্চায়েত ডাকেন এবং ছোট ছেলে তারাচাঁদকে সাথে নিয়ে বড় ভাইয়ের ওপর চড়াও হন।

আইনি পদক্ষেপ ও সামাজিক প্রভাব
নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে প্রশাসনের টনক নড়ে। মুরসান এরিয়া সার্কেল অফিসার যোগেন্দ্র কৃষ্ণ নারায়ণের নেতৃত্বে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত বাবা ও ছোট ভাইকে বিএনএসএস-এর ধারা ১৭০-এর অধীনে গ্রেফতার করে। ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা কীভাবে একটি পরিবারের ভেতর চরম লাঞ্ছনার জন্ম দিতে পারে, এই ঘটনা তার একটি উদ্বেগজনক দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে। পুলিশ বর্তমানে ওই সালিশি সভায় উপস্থিত অন্যদের ভূমিকাও খতিয়ে দেখছে।

এক ঝলকে

  • ধর্ম পরিবর্তনের সন্দেহে নিজের ছেলেকে জুতার মালা পরিয়ে অপমান করেছেন এক বাবা।
  • উত্তরপ্রদেশের হাথরাস জেলার এই ঘটনায় অভিযুক্ত বাবা ও ছোট ভাইকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
  • প্রসাদ গ্রহণ না করা এবং পূজা দিতে অস্বীকার করায় এই বিবাদের সূত্রপাত বলে জানা গেছে।
  • সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর পুলিশ কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *