কংগ্রেসকে নিয়ে শাহের অবাক করা ‘ভবিষ্যদ্বাণী’! বিজেপির চাণক্যের নিশানায় কোন নতুন সমীকরণ?

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার রণদামামা বাজতেই বঙ্গ সফরে এসে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়িয়ে দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শিলিগুড়ি ও সালবনির জনসভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে তীব্র আক্রমণের পাশাপাশি কংগ্রেসের ভবিষ্যৎ নিয়ে এক বিষ্ফোরক মন্তব্য করেছেন তিনি। শাহের দাবি, এবারের নির্বাচনে তৃণমূলের পায়ের তলা থেকে মাটি সরে গিয়েছে এবং রাজ্যে কংগ্রেস বড়জোর কেবল ‘খাতা খুলতে’ সক্ষম হবে। রাজনৈতিক মহলে বিজেপির এই হেভিওয়েট নেতার মন্তব্যের নেপথ্যে থাকা কৌশল নিয়ে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
ভোটের সমীকরণ ও শাহের কৌশল
অমিত শাহের এই মন্তব্যের নেপথ্যে মূলত ভোট কাটাকাটির অঙ্ক কাজ করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কংগ্রেস সামান্য শক্তিশালী হলে তা মূলত তৃণমূলের সংখ্যালঘু ও গ্রামীণ ভোটব্যাঙ্কেই থাবা বসাবে, যার সরাসরি সুবিধা পাবে বিজেপি। এছাড়া, কংগ্রেসকে কেবল ‘খাতা খোলা’র পর্যায়ে সীমাবদ্ধ রেখে শাহ আসলে রাজ্যে বাম-কংগ্রেস জোটের প্রাসঙ্গিকতাকে গুরুত্বহীন করতে চেয়েছেন। এর মাধ্যমে তিনি বার্তা দিতে চেয়েছেন যে, বাংলার লড়াই এখন কার্যত দ্বিমুখী— অর্থাৎ বিজেপি বনাম তৃণমূল।
রাজনৈতিক মহলে পাল্টা প্রতিক্রিয়া
শাহের এই ‘ভবিষ্যদ্বাণী’কে অবশ্য আমল দিতে নারাজ শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের দাবি, নিশ্চিত পরাজয় জেনে এখন অন্যের ভাগ্য গণনায় নেমেছেন শাহ। অন্যদিকে, প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্ব এই মন্তব্যকে প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, বিজেপি ও তৃণমূলের তৈরি করা কৃত্রিম বাইনারি এবার ভোটাররা ভেঙে দেবে এবং কংগ্রেসই রাজ্যের ক্ষমতার নির্ণায়ক শক্তি হয়ে উঠবে। সব মিলিয়ে নির্বাচনের আগে শাহের এই মন্তব্য বিরোধী শিবিরে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এক ঝলকে
- বঙ্গ সফরে এসে তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ ও কংগ্রেসের শক্তি নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক ভবিষ্যদ্বাণী করলেন অমিত শাহ।
- শাহের মতে, এবারের নির্বাচনে তৃণমূল জনসমর্থন হারালেও কংগ্রেস কেবল নামমাত্র উপস্থিতিতেই সীমাবদ্ধ থাকবে।
- বিশ্লেষকদের মতে, বিরোধী ভোট ভাগ করে তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্কে ধস নামানোই বিজেপির মূল রণকৌশল।
- তৃণমূল ও কংগ্রেস উভয় দলই শাহের এই রাজনৈতিক বিশ্লেষণকে অবাস্তব বলে উড়িয়ে দিয়েছে।