প্রথম দফাতেই অগ্নিপরীক্ষা! ১৫২ আসনের সমীকরণে কেন কাঁপছে তৃণমূলের গড়? সামনে এল ১০টি বিস্ফোরক কারণ

রাজ্যের প্রথম দফার নির্বাচনে ১৫২টি আসনের রাজনৈতিক ভাগ্য নির্ধারণ হতে যাচ্ছে বৃহস্পতিবার। মোদী-শাহের ‘গড়’ হিসেবে পরিচিত এলাকাগুলোতে ভোটগ্রহণ চলায় প্রবল চাপের মুখে রয়েছে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। নবান্ন থেকে শুরু করে ঘাসফুল শিবিরের শীর্ষ নেতৃত্ব—সবার মনেই এখন অজানা আশঙ্কার মেঘ দানা বেঁধেছে। বিগত কয়েকটি নির্বাচনের পরিসংখ্যান এবং রাজনৈতিক মেরুকরণ বিচার করলে দেখা যাচ্ছে, এই দফার আসনগুলোর একটি বড় অংশই বিজেপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত, যা শাসকদলের উদ্বেগ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
তৃণমূলের মাথাব্যথার প্রধান কারণসমূহ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের ভোটে দশটি বিশেষ ফ্যাক্টর তৃণমূলের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে। জঙ্গলমহল থেকে উত্তরবঙ্গ—বিগত নির্বাচনগুলোতে বিজেপির চমকপ্রদ ফল তৃণমূলের সাংগঠনিক শক্তির সামনে বড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করেছে। এর পাশাপাশি দলের অন্দরে নিচুতলার অন্তর্কন্দল এবং টিকিট না পাওয়া বিক্ষুব্ধ নেতাদের নির্দল প্রার্থী হিসেবে দাঁড়ানোয় ভোট কাটাকাটির সমীকরণ তৈরি হয়েছে। গ্রামীণ এলাকায় দুর্নীতির অভিযোগ এবং পরিযায়ী শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ব্যালট বক্সে কী প্রভাব ফেলে, তা নিয়ে রীতিমতো সন্দিহান জোড়াফুল শিবির।
ভোটের সমীকরণে নতুন মোড়
নির্বাচনের এই মহারণে কুড়মি আন্দোলন এবং নারী নিরাপত্তা ইস্যুগুলোও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুবিধা থাকলেও নারী ভোট ব্যাংকের একটি অংশ নিরাপত্তা ইস্যুতে বিরূপ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, বুথ স্তরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নজরদারি তৃণমূলের প্রথাগত নির্বাচনী কৌশলে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। ভোটারদের নীরবতা এবং বাম-কংগ্রেস জোটের ভোট শতাংশ বাড়ার সম্ভাবনাও শাসকদলের জয়ের পথে বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়াতে পারে। এই বহুমুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে তৃণমূল শেষ পর্যন্ত তাদের আধিপত্য বজায় রাখতে পারে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
এক ঝলকে
- প্রথম দফায় ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ হতে যাচ্ছে যার বড় অংশই বিরোধী শিবিরের শক্ত ঘাঁটি।
- অন্তর্কন্দল, নির্দল প্রার্থীর আধিক্য এবং দুর্নীতির অভিযোগ শাসকদলের মূল চিন্তার কারণ।
- জঙ্গলমহলের কুড়মি ফ্যাক্টর এবং পরিযায়ী শ্রমিকদের ক্ষোভ জয়ের সমীকরণ বদলে দিতে পারে।
- কেন্দ্রীয় বাহিনীর সক্রিয়তা এবং ভোটারদের নীরবতা বড় কোনো রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।