সাবধান! আপনার রান্নাঘরের তেলই কি ডেকে আনছে অকাল মৃত্যু? বছরে প্রাণ যাচ্ছে ২০ লক্ষ মানুষের!

রান্নাঘরে অপরিহার্য উপাদানের তালিকায় সবার উপরে থাকে ভোজ্য তেল। তবে সাম্প্রতিক কিছু গবেষণার তথ্য এবং জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ অনুযায়ী, আধুনিক প্রক্রিয়াজাত ‘রিফাইন তেল’ বা পরিশোধিত তেল জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেরালা আয়ুর্বেদিক ইউনিভার্সিটি অফ রিসার্চ সেন্টারের এক চাঞ্চল্যকর দাবি অনুযায়ী, প্রতি বছর বিশ্বে প্রায় ২০ লাখ মানুষের মৃত্যুর নেপথ্যে পরোক্ষভাবে এই তেলের ভূমিকা রয়েছে। সাধারণ তেলের স্থায়িত্ব বাড়ানো এবং গন্ধহীন করার প্রক্রিয়াই মূলত একে বিষাক্ত করে তুলছে।
ভয়াবহ রোগের উৎস ও শারীরিক ক্ষতি
রিফাইন তেল তৈরির প্রক্রিয়ায় উচ্চ তাপমাত্রা এবং কস্টিক সোডা, সালফার ও অ্যাসিডের মতো ক্ষতিকারক রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়। এই রাসায়নিক সংমিশ্রণ শরীরের ডিএনএ (DNA) কাঠামোর ক্ষতি করতে পারে এবং হৃৎপিণ্ডের ধমনিতে ব্লকেজ তৈরি করে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া দীর্ঘমেয়াদে এই তেল ব্যবহারে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি বিকল হওয়া, এমনকি পুরুষ ও মহিলাদের ক্ষেত্রে প্রজনন ক্ষমতা হ্রাসের মতো গুরুতর সমস্যা দেখা দিতে পারে। তেলের প্রাকৃতিক পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এটি হাড়ের ক্ষয় ও জয়েন্টের ব্যথার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
উৎপাদন প্রক্রিয়ার নেতিবাচক প্রভাব
বীজ থেকে তেল নিষ্কাশনের পর তার রং ও গন্ধ দূর করতে যে পরিশোধক পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়, তা মূলত একটি রাসায়নিক প্রক্রিয়া। এই সময় তেল থেকে যে ঘন বর্জ্য বের হয়, তা টায়ার তৈরির কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। অর্থাৎ যে তরলটি রান্নায় ব্যবহৃত হচ্ছে, তা প্রকারান্তরে অ্যাসিড ও রাসায়নিকের একটি মিশ্রণ মাত্র। চিকিৎসকদের মতে, এই প্রক্রিয়াজাত তেলের নিয়মিত ব্যবহার লিভারের কার্যক্ষমতা নষ্ট করার পাশাপাশি দৃষ্টিশক্তি কমিয়ে দেয় এবং ত্বকের নানাবিধ চর্মরোগ সৃষ্টি করে।
এক ঝলকে
- রিফাইন তেল পরিশোধনে ব্যবহৃত অ্যাসিড ও কেমিক্যাল শরীরের কোষ এবং ডিএনএ-র স্থায়ী ক্ষতি করছে।
- হৃদরোগ, ক্যানসার, বন্ধ্যাত্ব এবং স্নায়বিক রোগের ঝুঁকি বাড়াতে এই তেল অনুঘটক হিসেবে কাজ করে।
- পরিশোধনের সময় প্রাকৃতিক পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এটি হাড় ও পেশির দুর্বলতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
- বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থ থাকতে পরিশোধিত তেলের বদলে ঘানি ভাঙা বা প্রাকৃতিক তেলের ওপর জোর দেওয়া প্রয়োজন।