নিয়োগ আর মোহ বাড়তেই পাল্টে গেল সুর! পড়াশোনার খরচ চালানো স্বামীর বিরুদ্ধেই খুনের ছক নার্স স্ত্রীর

উত্তরপ্রদেশের মুরাদাবাদে এক মর্মান্তিক ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। দীর্ঘ ১১ বছরের দাম্পত্য জীবনের ইতি টেনে নার্সিংয়ের চাকরি পাওয়ার পর স্বামীকে বর্জন করেছেন পম্মি সাগর নামের এক নারী। ভুক্তভোগী স্বামী সন্ত পালের অভিযোগ, হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে এবং প্রায় ৫ লক্ষ টাকা খরচ করে তিনি স্ত্রীকে নার্সিং পড়িয়েছিলেন। কিন্তু কর্মজীবনে প্রবেশের পরপরই পম্মি তার সহকর্মী মনোজের সঙ্গে পরকীয়ায় লিপ্ত হন এবং বর্তমানে তার সাথেই লিভ-ইন সম্পর্কে থাকছেন।
ভালোবাসার প্রতিদান যখন চরম প্রতারণা
২০১৪ সালে সন্ত পাল ও পম্মির বিয়ে হয় এবং তাদের দুটি সন্তানও রয়েছে। স্ত্রীর পড়াশোনার ইচ্ছাকে সম্মান জানিয়ে অভাবের সংসারেও নার্সিং কোর্সের খরচ জুগিয়েছিলেন স্বামী। কিন্তু চাকরি পাওয়ার পর থেকেই পম্মির আচরণে পরিবর্তন আসতে শুরু করে। অভিযোগ উঠেছে, নিজের বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক আড়াল করতে পম্মি শুরুতে প্রেমিকের বিরুদ্ধে সাজানো মামলা করলেও পরবর্তীতে তার সাথেই ঘর বাঁধেন। এদিকে নিজ বাড়িতে থাকতে না পেরে প্রাণভয়ে বর্তমানে ভাড়া বাসায় দিন কাটাচ্ছেন অসহায় এই স্বামী।
নিরাপত্তাহীনতায় ভুক্তভোগী স্বামী ও আইনি পদক্ষেপ
ঘটনাটি কেবল বিচ্ছেদেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং এখন তা রূপ নিয়েছে সহিংসতায়। সন্ত পালের দাবি, স্ত্রীর ভাইদের দিয়ে তাকে মারধর করা হয়েছে এবং তাকে খুনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে নিরুপায় হয়ে তিনি মাঝোলা থানায় স্ত্রী ও তার ভাইদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশের কাছে নিজের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন জানিয়েছেন এই ব্যক্তি। আধুনিক সমাজে সম্পর্কের এই অবক্ষয় এবং শিক্ষিত হওয়ার পর জীবনসঙ্গীকে অবজ্ঞার বিষয়টি স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
এক ঝলকে
- ২০১৪ সালে বিয়ের পর প্রায় ৫ লক্ষ টাকা খরচ করে স্ত্রীকে নার্সিং পড়ান স্বামী সন্ত পাল।
- চাকরি পাওয়ার পর সহকর্মীর প্রেমে মজে ১১ বছরের সংসার ও দুই সন্তানকে ফেলে চলে যান স্ত্রী পম্মি।
- নিজ বাড়িতে স্ত্রীর হাতে হেনস্তার শিকার হয়ে বর্তমানে ভাড়া বাড়িতে প্রাণভয়ে থাকছেন স্বামী।
- পুলিশের কাছে স্ত্রী ও শ্যালকদের বিরুদ্ধে মারধর এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।