সাধুবেশে ভারত-নেপাল সীমান্ত পার হচ্ছিল ৮৫ লক্ষ টাকা! খাতা-কলম নিয়ে বসেও হিসেব মেলাতে হিমশিম খাচ্ছে আয়কর দপ্তর

ভারত-নেপাল সীমান্তের রূপইডিহা এলাকায় পুলিশ ও সশস্ত্র সীমা বলের (এসএসবি) যৌথ অভিযানে বিপুল পরিমাণ অর্থসহ ছয় ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত অর্থের মধ্যে ১৬.৫ লাখ ভারতীয় রুপি এবং ৬৯ লাখ নেপালি রুপি রয়েছে। আটককৃতদের মধ্যে দুই নেপালি নাগরিক এবং চারজন বাহরাইচের স্থানীয় বাসিন্দা বলে শনাক্ত করেছে প্রশাসন। সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত তল্লাশরি সময় সন্দেহভাজন এই ব্যক্তিদের কাছ থেকে নগদ টাকার কোনো বৈধ নথি না পাওয়ায় তাদের আটক করা হয়।
আড়ালে কি হাওলা চক্র?
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা দাবি করেছেন যে, তারা একটি আধ্যাত্মিক সংগঠনের অনুসারী এবং লক্ষ্ণৌ থেকে সংগৃহীত দানের টাকা নেপালে মন্দির তৈরির কাজে নিয়ে যাচ্ছিলেন। তবে তদন্তকারী কর্মকর্তাদের সন্দেহ, এই বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচারের জন্য ‘হাওলা’ মাধ্যম ব্যবহার করা হচ্ছিল। বিশেষ করে নেপালি নাগরিকদের সাধুর পোশাকে সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টা এবং স্থানীয় মুদ্রায় অর্থ রূপান্তর করার বিষয়টি নিরাপত্তা বাহিনীর নজরে এসেছে।
তদন্তে আয়কর বিভাগ
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে স্থানীয় গোয়েন্দা বিভাগ ও আয়কর দপ্তরকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। যেহেতু অভিযুক্তরা উদ্ধারকৃত ৮৫ লাখ টাকার সপক্ষে কোনো প্রমাণ পেশ করতে পারেনি, তাই বিষয়টি এখন উচ্চপর্যায়ে তদন্তাধীন। লক্ষ্ণৌতে কাদের কাছ থেকে এই অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং নেপালের কোথায় এই টাকা যাচ্ছিল, তা যাচাই করতে শীঘ্রই একটি দল অভিযানে নামতে পারে। বর্তমানে রূপইডিহা থানায় অপরাধীদের জেরা করা হচ্ছে।
এক ঝলকে
- ভারত-নেপাল সীমান্তে যৌথ অভিযানে নগদ ৮৫ লাখ রুপি (ভারতীয় ও নেপালি মুদ্রা) উদ্ধার করা হয়েছে।
- ঘটনায় ৬ জনকে আটক করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ২ জন নেপালি নাগরিক ও ৪ জন উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা।
- অভিযুক্তরা সাধুর ছদ্মবেশে মন্দির নির্মাণের নামে এই অর্থ পাচারের চেষ্টা করছিলেন বলে অভিযোগ।
- আয়কর দপ্তর ও গোয়েন্দা বিভাগ এই ঘটনার সাথে বড় কোনো হাওলা চক্রের সম্পৃক্ততা খতিয়ে দেখছে।