রোজ ১০০ রুটি আর ১০ লিটার দুধ! ব্রুস লি-র আদর্শ এই ভারতীয় পালোয়ান জীবনে হারেননি একটিও লড়াই!

বিশ্ব কুস্তির ইতিহাসে এক অনন্য নাম ‘দ্য গ্রেট গামা’, যিনি তাঁর ৫২ বছরের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে কখনও হারের স্বাদ পাননি। ১৮৭৮ সালে অমৃতসরে জন্ম নেওয়া এই কুস্তিগীরকে ভারত ও পাকিস্তান উভয় দেশই নিজেদের গর্ব হিসেবে গণ্য করে। দশ বছর বয়স থেকেই কুস্তির আঙিনায় পা রাখা গামা মূলত তাঁর বাবা মুহম্মদ আজিজ বখশ ও পরে বিখ্যাত কুস্তিগীর মাধো সিংয়ের অধীনে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। এমনকি বিশ্বখ্যাত মার্শাল আর্টিস্ট ব্রুস লি-ও গামার কঠোর ব্যায়াম পদ্ধতির ভক্ত ছিলেন এবং তাঁর থেকে অনুপ্রাণিত হয়েই ডন-বৈঠক দেওয়া শুরু করেন।
বিস্ময়কর খাদ্যাভ্যাস ও কঠোর পরিশ্রম
গামা पहलवानের অজেয় থাকার মূল রহস্য ছিল তাঁর অবিশ্বাস্য খাদ্যাভ্যাস এবং লোহার মতো শরীর গড়ার কঠোর পরিশ্রম। তিনি প্রতিদিন ৫০০০ বৈঠক এবং ১০০০ পুশ-আপ দিতেন। এই বিপুল শারীরিক শক্তি বজায় রাখতে তিনি দৈনিক ১০ লিটার দুধ, ৬টি দেশি মুরগি, আধা কেজি ঘি এবং ১০০টি রুটি খেতেন। এছাড়া কাঠবাদামের শরবত ছিল তাঁর নিত্যদিনের খাদ্যতালিকার অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাঁর এই অতিমানবীয় জীবনযাপন সমকালীন বিশ্বের অ্যাথলেটদের কাছে ছিল এক বড় বিস্ময়।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভারত ও গামার শ্রেষ্ঠত্ব
১৯১০ সালে লন্ডনে আন্তর্জাতিক চ্যাম্পিয়নশিপের সময় আমেরিকান চ্যাম্পিয়ন বেঞ্জামিন রোলারকে মাত্র ১ মিনিট ৪০ সেকেন্ডে হারিয়ে বিশ্ববাসীকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন গামা। তবে তাঁর জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় লড়াই ছিল রুস্তম-এ-হিন্দ রহিম বখশ সুলতানিওয়ালার বিরুদ্ধে। উচ্চতায় অনেক ছোট হওয়া সত্ত্বেও গামা তাঁর চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী রহিমকে সমান টক্কর দিয়েছিলেন, যা তাঁকে বিশ্বজুড়ে খ্যাতি এনে দেয়। ১৯৬৩ সালে দীর্ঘ অসুস্থতার পর লাহোরে এই মহাবীর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
এক ঝলকে
- গামা তাঁর ৫২ বছরের পেশাদার ক্যারিয়ারে একটিও লড়াই হারেননি।
- তিনি প্রতিদিন ৫০০০ বৈঠক ও ১০০০ পুশ-আপ দেওয়ার পাশাপাশি ১০০টি রুটি ও ১০ লিটার দুধ খেতেন।
- মার্শাল আর্ট লিজেন্ড ব্রুস লি গামার শরীরচর্চার পদ্ধতি অনুসরণ করতেন।
- ১৯১০ সালে লন্ডনের কুস্তি প্রতিযোগিতায় আমেরিকান চ্যাম্পিয়নকে মাত্র ১০০ সেকেন্ডের মধ্যে পরাজিত করেছিলেন।