প্রথম দফায় ভোটদানের হার বেশি বাংলায়, কার লাভ? মমতা, মোদী ও শুভেন্দু যা যা দাবি করলেন

প্রথম দফায় ভোটদানের হার বেশি বাংলায়, কার লাভ? মমতা, মোদী ও শুভেন্দু যা যা দাবি করলেন

২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফায় নজিরবিহীন ভোটদানের হার ঘিরে সরগরম হয়ে উঠেছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহল। বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটের হার ৯০ শতাংশ ছাড়িয়ে যাওয়ায় প্রধান তিন রাজনৈতিক শিবির—তৃণমূল, বিজেপি এবং বাম-কংগ্রেস জোটের মধ্যে জয়ের সমীকরণ নিয়ে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। বিপুল এই জনজোয়ার কার পক্ষে যাবে, তা নিয়ে হেভিওয়েট নেতাদের পাল্টাপাল্টি দাবি নির্বাচনের উত্তাপ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

রাজনৈতিক শিবিরের রণহুঙ্কার ও জয়ের দাবি

নির্বাচন চলাকালীনই জনসভা থেকে জয়ের বিষয়ে ১০০ শতাংশ আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁর মতে, এবারের নির্বাচন কোনো নির্দিষ্ট দলের লড়াই নয়, বরং বাংলার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিচ্ছেন। অন্যদিকে, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী আরও এক ধাপ এগিয়ে দাবি করেছেন, প্রথম দফার ১৫২টি আসনের মধ্যে ১২৫টিরও বেশি আসনে জয়ী হবে বিজেপি। তাঁর ভাষায়, রাজ্যে একটি ‘হিন্দু ঝড়’ বইছে যা শাসকদলকে ক্ষমতাচ্যুত করবে।

অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই ও তৃণমূলের পাল্টাপাল্টি যুক্তি

পাল্টা জবাবে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, প্রথম দফার ভোটেই তাঁর দল জয়ের প্রয়োজনীয় অবস্থানে পৌঁছে গিয়েছে। তাঁর মতে, বাংলার মানুষ নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার তাগিদে এবং গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার্থেই দলে দলে ভোটকেন্দ্রে এসেছেন। ভোটার তালিকায় নাম ফেরানোর লড়াই এবং বিজেপির ‘ষড়যন্ত্র’ রুখতেই সাধারণ মানুষ তৃণমূলকে বেছে নিয়েছেন বলে তিনি মনে করেন। মমতা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, বিনা যুদ্ধে তিনি এক ইঞ্চি জমিও ছাড়বেন না।

নজিরবিহীন এই ভোটদানের হার মূলত দুই ধরনের ইঙ্গিত দেয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, বিপুল ভোট সাধারণত সরকার বিরোধী হাওয়ার প্রতিফলন। আবার অন্য অংশের মতে, তৃণমূলের সাংগঠনিক শক্তি এবং সরকারি প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের সক্রিয় উপস্থিতিই এই উচ্চ হারের কারণ হতে পারে। শেষ পর্যন্ত এই জনজোয়ার ‘পরিবর্তন’ না কি ‘প্রত্যাবর্তন’ নিশ্চিত করে, তা জানতে ৪ মে ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

এক ঝলকে

  • প্রথম দফার নির্বাচনে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটদানের হার ৯০ শতাংশ ছাড়িয়ে নজির সৃষ্টি করেছে।
  • প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং শুভেন্দু অধিকারী বিপুল ব্যবধানে জয়ের মাধ্যমে পরিবর্তনের দাবি তুলেছেন।
  • মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে তৃণমূলের জয় নিশ্চিত বলে ঘোষণা করেছেন।
  • ভোটার তালিকায় নাম রাখা ও অধিকার রক্ষার তাগিদেই মানুষ বেশি ভোট দিয়েছেন বলে মত মুখ্যমন্ত্রীর।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *