বুথ ফাঁকা করে সবাই মিলে ‘পিকনিক’! পিংলায় ভোট সামলে ভোজ সারতে গিয়ে সাসপেন্ড সব ভোটকর্মী

পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলা বিধানসভার ৯ নম্বর বুথে ভোট চলাকালীন এক নজিরবিহীন ও দায়িত্বজ্ঞানহীন ঘটনার সাক্ষী থাকল রাজ্য। বৃহস্পতিবার দুপুরে মধ্যাহ্নভোজ সারতে প্রিসাইডিং অফিসারসহ বুথের সমস্ত ভোটকর্মী একযোগে কেন্দ্র ছেড়ে বেরিয়ে যান। একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাঝপথে সম্পূর্ণ বুথকে অরক্ষিত রেখে ভোটকর্মীদের এভাবে চলে যাওয়ার ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।
নিরাপত্তাকর্মীদের ফোন এবং চরম উদাসীনতা
ঘটনার সময় বুথে কোনো ভোটকর্মী না থাকায় কর্তব্যরত নিরাপত্তাকর্মীরা দুশ্চিন্তায় পড়েন। তারা প্রিসাইডিং অফিসারকে ফোন করলে অত্যন্ত দায়িত্বহীন উত্তর মেলে। ভোটকর্মীরা জানান যে তারা বাইরে আছেন এবং খাওয়া শেষ করে ‘পরে আসছেন’। এমনকি বুথের তদারকির দায়িত্বে থাকা সেক্টর অফিসারও সেই সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন না বলে জানা গেছে। এই চরম অব্যবস্থার খবর পৌঁছাতেই নড়েচড়ে বসে নির্বাচন কমিশন।
কমিশনের কড়া বার্তা ও সাসপেনশন
নির্বাচন প্রক্রিয়ায় এমন গাফিলতিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখেছে কমিশন। কর্তব্যে চরম অবহেলার অভিযোগে ৯ নম্বর বুথের প্রিসাইডিং অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট সমস্ত ভোটকর্মীকে তাৎক্ষণিকভাবে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক মহলের মতে, এই কড়া পদক্ষেপের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট করে দিল যে, নির্বাচনী বিধিনিধি লঙ্ঘন বা দায়িত্বে সামান্যতম অবহেলা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। ভবিষ্যতে ভোটকর্মীদের সচেতনতা বৃদ্ধিতে এই সিদ্ধান্ত একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
এক ঝলকে
ঘটনার সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত সেক্টর অফিসারও বুথের বাইরে ছিলেন বলে অভিযোগ।
পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলার ৯ নম্বর বুথে ভোট চলাকালীন সব কর্মী একসঙ্গে লাঞ্চে যান।
নিরাপত্তাকর্মীদের ফোন করার পরেও তৎক্ষণাৎ বুথে ফিরতে অস্বীকার করেন অভিযুক্তরা।
কর্তব্যে অবহেলার কারণে প্রিসাইডিং অফিসারসহ সব ভোটকর্মীকে সাসপেন্ড করেছে কমিশন।