অশ্লীল পাসওয়ার্ড থেকে নোংরা হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ, টিসিএস নাসিক কাণ্ডে এবার হাড়হিম করা নয়া তথ্য!

অশ্লীল পাসওয়ার্ড থেকে নোংরা হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ, টিসিএস নাসিক কাণ্ডে এবার হাড়হিম করা নয়া তথ্য!

ভারতের নাসিকে টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেসের (টিসিএস) বিপিও ইউনিটে দীর্ঘ চার বছর ধরে চলা যৌন ও ধর্মীয় হেনস্তার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। তদন্তে জানা গেছে, নারী কর্মীদের মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করতে অফিসের ওয়াই-ফাই পাসওয়ার্ডে অশ্লীল শব্দ ব্যবহার করা হতো। এছাড়া অফিশিয়াল হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে নিয়মিত কুরুচিপূর্ণ বার্তা পাঠানোর মাধ্যমে এক বিভীষিকাময় কাজের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত চলা এই পদ্ধতিগত হেনস্তার শিকার হয়ে অন্তত সাতজন নারী কর্মী পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন।

কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা ও পরিকল্পিত নিপীড়ন

অভিযোগকারিনীদের দাবি, মূল অভিযুক্ত রাজা রফিক মেমন তার কেবিনে ডেকে নারী কর্মীদের উদ্দেশ্যে অশালীন মন্তব্য করতেন এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানতেন। এমনকি অফিসের পাসওয়ার্ডগুলো এমনভাবে তৈরি করা হতো যা উচ্চারণ করা নারী কর্মীদের জন্য ছিল চরম অস্বস্তিকর। গুরুতর এই বিষয়টি নিয়ে হিউম্যান রিসোর্স (এইচআর) বিভাগে বারবার অভিযোগ জানানো হলেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বরং অভিযোগ করার পর নিপীড়নের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেওয়া হয় এবং ডিজিটাল মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের সম্পর্কে কুৎসা রটানো শুরু হয়।

আইনি ব্যবস্থা ও গ্রেফতার

এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত টিসিএসের সাতজন কর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ, যার মধ্যে এইচআর অশ্বিনী চৈনানিও রয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ভুক্তভোগীদের মামলা করতে বাধা দিয়েছিলেন। এছাড়া মূল অভিযুক্ত দানিশ শেখের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন এবং জোরপূর্বক ধর্ম পরিবর্তনের চাপের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। পুলিশি তদন্তের মুখে কো ম্পা নিটি ইতিমধ্যে অভিযুক্তদের সাময়িক বরখাস্ত করেছে। কর্মক্ষেত্রে এমন প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতা ও বিকৃত মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ নিয়ে বর্তমানে মহারাষ্ট্র রাজ্যজুড়ে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

এক ঝলকে

  • নাসিকের টিসিএস ইউনিটে নারী কর্মীদের মানসিকভাবে হেনস্তা করতে পাসওয়ার্ডে অশালীন শব্দ ব্যবহার করা হতো।
  • ২০২২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত চলা এই দীর্ঘকালীন নির্যাতনে যৌন ও ধর্মীয় বিদ্বেষের অভিযোগ উঠেছে।
  • এইচআর ম্যানেজারসহ সাতজন কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তাদের সাসপেন্ড করেছে কো ম্পা নি কর্তৃপক্ষ।
  • ভুক্তভোগী নারীদের অভিযোগ, বারবার জানানো সত্ত্বেও অফিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কোনো সুরক্ষা প্রদান করেননি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *