৯১ শতাংশ পার! ২০১১-র রেকর্ড চুরমার করে বাংলায় ভোট-বিস্ফোরণ, ‘পরিবর্তন’ নাকি ‘প্রত্যাবর্তন’?

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর প্রথম দফায় নজিরবিহীন ভোটদানের সাক্ষী থাকল রাজ্য। বৃহস্পতিবার ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ শেষে নির্বাচন কমিশনের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভোটদানের হার পৌঁছেছে ৯১.৭৪ শতাংশে। দুপুরের পর থেকেই বুথগুলিতে ভোটারদের লম্বা লাইন দেখা যায়, যা বিকেল গড়াতেই আগের সমস্ত রেকর্ডকে ছাপিয়ে যায়। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রগুলিতে ভোটদানের হার ছিল ৮৩.২ শতাংশ, যা এবার অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়েছে।
রেকর্ড ভোটদানের নেপথ্যে নানামুখী জল্পনা
ভোটের এই বিপুল হার নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে ‘SIR’ (স্ট্যাচু অফ আইডেন্টিটি রুলস) আতঙ্ক নাকি পরিবর্তনের হাওয়া—কোনটি মানুষকে বুথমুখী করল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, ভোটার তালিকার কঠোর নিয়মাবলী বা পরিচয় সংক্রান্ত কড়াকড়ি থেকে বাদ পড়ার আশঙ্কায় অনেকেই এবার অধিকার প্রয়োগে বাড়তি সর্তকতা দেখিয়েছেন। আবার ২০১১ সালের ঐতিহাসিক পরিবর্তনের বছরের ৮৪ শতাংশ ভোটদানের নজির ভেঙে যাওয়ায় রাজ্যের শাসক ও বিরোধী উভয় শিবিরই একে নিজেদের অনুকূলে ‘জনজোয়ার’ বলে দাবি করছে।
পরিবর্তন নাকি প্রত্যাবর্তন
প্রথম দফার এই প্রবণতা বজায় থাকলে ২০২৬-এর নির্বাচন রাজ্যের ইতিহাসে সর্বকালের সর্বোচ্চ ভোটদানের নজির গড়তে পারে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, নরেন্দ্র মোদী ও শুভেন্দু অধিকারী—তিন পক্ষই প্রথম দফার শেষে জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী। জনমনে প্রশ্ন উঠেছে, এই বিপুল স্বতঃস্ফূর্ততা কি বর্তমান সরকারের প্রতি জনসমর্থনের প্রতিফলন, নাকি সরকার পরিবর্তনের ইঙ্গিত? বিক্ষিপ্ত কিছু অশান্তি ছাড়া ভোট মোটের ওপর শান্তিপূর্ণ হওয়ায় সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের হার বেড়েছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
এক ঝলকে
- ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফায় ১৫২টি আসনে ভোট পড়েছে ৯১.৭৪ শতাংশ।
- ২০১১ সালের ঐতিহাসিক পরিবর্তন ও ২০২১ সালের ভোটদানের রেকর্ড এবার প্রথম দফাতেই ভেঙে গিয়েছে।
- ভোটারদের মধ্যে ‘SIR’ আতঙ্ক এবং রাজনৈতিক সচেতনতা উভয়ই এই বিপুল ভোটদানের কারণ হিসেবে উঠে আসছে।
- শাসক ও বিরোধী দল—উভয় পক্ষই এই উচ্চ হারকে নিজেদের পক্ষে জয়ের লক্ষণ হিসেবে দাবি করেছে।