২৫ বছর পর ফিরে পেলেন জন্মদাত্রীকে, তবুও ‘ধর্ম’ পাল্টানোর শর্তে মাকে ত্যাজ্য করলেন ছেলে!

দীর্ঘ ২৫ বছর পর নিজের ঘর ও সন্তানের দেখা পেলেন সুশীলা মুর্মু। কিন্তু জীবনের এই পড়ন্ত বিকেলে বাড়ি ফিরেও মমতার স্পর্শ পেলেন না তিনি। ঝাড়খণ্ডের গোড্ডা জেলার এই বৃদ্ধা গত দুই দশক ধরে কলকাতার একটি আশ্রয়কেন্দ্রে ছিলেন। সম্প্রতি তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে বাড়ি ফেরার পর ছেলে মদন বেসরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, মা যদি হিন্দু ধর্ম গ্রহণ না করেন, তবে তাকে পরিবারে জায়গা দেওয়া হবে না।
ধর্মের বেড়াজালে মানবিকতা
সুশীলা মুর্মুর স্বামী হিন্দু হলেও তিনি বিয়ের আগেই খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। ২০ বছর আগে স্বামীর মৃত্যুর পর গ্রামবাসীদের আপত্তির মুখে তিনি গ্রাম ছাড়তে বাধ্য হন। দীর্ঘ যাযাবর জীবনের এক পর্যায়ে স্মৃতিশক্তি হারিয়ে তিনি কলকাতায় পৌঁছান এবং ২০০১ সালে ‘মিশনারিজ অফ চ্যারিটি’-র আশ্রয়ে ঠাঁই পান। সম্প্রতি তার স্মৃতি কিছুটা ফিরে আসায় পরিবারের খোঁজ পাওয়া যায়, কিন্তু বর্তমানে ধর্মীয় বিশ্বাস বদলানোর শর্ত জুড়ে দিয়ে ছেলে তার বৃদ্ধা মায়ের জন্য ঘরের দরজা বন্ধ করে দিয়েছেন।
সামাজিক প্রভাব ও অনিশ্চয়তা
এই ঘটনাটি সমাজে ধর্মীয় গোঁড়ামির এক চরম দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। সন্তানের এমন অনড় অবস্থানের কারণে সুশীলা মুর্মুর ভবিষ্যৎ আবারও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। যে ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে দুই দশক আগে তাকে ঘর ছাড়তে হয়েছিল, পঁচিশ বছর পর সেই একই কারণে তিনি নিজভূমে পরবাসী হয়ে রইলেন। এই পরিস্থিতি কেবল একটি পারিবারিক বিচ্ছিন্নতা নয়, বরং প্রান্তিক জনপদে ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার গভীর প্রভাবকে স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলেছে।
এক ঝলকে
- দীর্ঘ ২৫ বছর পর ঝাড়খণ্ডের গোড্ডার গ্রামের বাড়িতে ফেরেন নিখোঁজ সুশীলা মুর্মু।
- খ্রিস্টধর্ম ত্যাগ করে হিন্দু না হলে তাকে মা হিসেবে গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন তার ছেলে।
- ২০ বছর আগে স্বামীর মৃত্যুর পর গ্রামবাসী ও আত্মীয়দের চাপে তিনি ঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন।
- দীর্ঘ সময় কলকাতার আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা এই বৃদ্ধা এখন ধর্মীয় শর্তের কারণে ফের আশ্রয়হীন হওয়ার ঝুঁকিতে।