স্বপ্নে দেখা দিলেন সাধু, নির্দেশ মেনে জঙ্গল খুঁড়তেই উদ্ধার শিবলিঙ্গ ও ৫৪৭টি রুদ্রাক্ষ! অলৌকিক কাণ্ড ছত্তিশগড়ে

ছত্তিশগড়ের রায়গড় জেলার কলগাটার গ্রামে এক অভাবনীয় ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। গ্রামের পাশের ঘন জঙ্গলে মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকা প্রাচীন শিবলিঙ্গ ও ধর্মীয় সামগ্রীর সন্ধান মিলেছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ও আধ্যাত্মিক সংকেতের ওপর ভিত্তি করেই এই খননকার্য চালানো হয়, যা শেষ পর্যন্ত সফল হয়েছে।
স্বপ্নের সেই নির্দেশ
সারঙ্গড় ব্লকের ঘুটা গ্রামের বাসিন্দা ২৬ বছর বয়সী রামগোপাল চৌহান জানান, চেন্নাইয়ে থাকাকালীন তিনি বেশ কিছুদিন ধরে স্বপ্নে এক রহস্যময় সাধুর দেখা পাচ্ছিলেন। সেই সাধু তাকে নির্দিষ্ট করে রায়গড় সংলগ্ন দেওয়ান যোনি জঙ্গলের একটি স্থানে শিবলিঙ্গ দাফন করা আছে বলে জানান। প্রথমে বিষয়টি গুরুত্ব না দিলেও পরবর্তীতে দিদি ও জামাইবাবুর বাড়িতে এসে তিনি গ্রামবাসীদের বিষয়টি খুলে বলেন। গ্রামবাসীরা পাহাড়ের ওপর কোনো সাধু থাকার কথা অস্বীকার করলেও রামগোপাল নিজের অবস্থানে অনড় থাকেন।
খননকার্যে পাওয়া প্রত্নতাত্ত্বিক সামগ্রী
গত বুধবার রামগোপালের চিহ্নিত স্থানে গ্রামবাসীরা খনন শুরু করলে বিস্ময়কর সব বস্তু বেরিয়ে আসতে থাকে। মাটির নিচ থেকে একটি শিবলিঙ্গ, ৩টি কলস, ৩টি ত্রিশূল এবং ৫৪৭টি রুদ্রাক্ষ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া সেখানে তামার সাপ এবং ব্রহ্মা-বিষ্ণু-মহেশ্বরের প্রতিকৃতি সম্বলিত পিণ্ডও পাওয়া গেছে। অবিকল স্বপ্নে দেখা জায়গায় এসব সামগ্রী মেলায় রীতিমতো হতবাক প্রত্যক্ষদর্শীরা।
সামাজিক ও আধ্যাত্মিক প্রভাব
এই ঘটনার খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে আশেপাশের গ্রাম থেকে হাজার হাজার মানুষ ভিড় জমাতে শুরু করেন। উদ্ধার হওয়া শিবলিঙ্গ ও অন্যান্য সামগ্রী নিয়ে ইতিমধ্যেই পূজা-অর্চনা শুরু করে দিয়েছেন স্থানীয়রা। সাধারণ মানুষের মধ্যে এই ঘটনাকে ঘিরে প্রবল ধর্মীয় আবেগ তৈরি হয়েছে এবং এলাকাটি বর্তমানে একটি তীর্থস্থানে পরিণত হয়েছে। তবে এটি স্রেফ কাকতালীয় নাকি কোনো প্রাচীন মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞ মহলে কৌতূহল বাড়ছে।
এক ঝলকে
- ছত্তিশগড়ের রায়গড় জেলার জঙ্গলে মাটির নিচ থেকে শিবলিঙ্গ ও প্রচুর রুদ্রাক্ষ উদ্ধার।
- রামগোপাল চৌহান নামে এক যুবকের দাবিমতে স্বপ্নে পাওয়া নির্দেশে চালানো হয় খননকার্য।
- উদ্ধারকৃত সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ৩টি ত্রিশূল, ৫৪৭টি রুদ্রাক্ষ ও তামার তৈরি ধর্মীয় চিহ্ন।
- ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এলাকায় ধর্মীয় উদ্দীপনা ও ব্যাপক ভিড় পরিলক্ষিত হচ্ছে।