শহরে ‘কিলিং মেশিন’ আতঙ্ক! কালো ব্যাগে ২০ লক্ষ টাকা না দিলে খুনের হুমকি দুই চিকিৎসককে

শহরে ‘কিলিং মেশিন’ আতঙ্ক! কালো ব্যাগে ২০ লক্ষ টাকা না দিলে খুনের হুমকি দুই চিকিৎসককে

শহরের দুই চিকিৎসকের কাছে জঙ্গি পরিচয় দিয়ে হুমকি চিঠি ঘিরে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে কলকাতায়। ভোট আবহের মধ্যে খাস কলকাতায় ২০ লক্ষ টাকা তোলা চেয়ে এই প্রাণনাশের হুমকি সরাসরি প্রশাসনের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে। পূর্ব কলকাতার আনন্দপুর ও পূর্ব যাদবপুর থানায় পৃথক অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় তদন্তে নেমেছে পুলিশ।

সিনেমার কায়দায় তোলাবাজি ও খুনের হুমকি

অভিযোগকারী দুই চিকিৎসকের কাছে নিজেদের একটি জঙ্গি সংগঠনের ‘স্পেশাল ইউনিট’ এবং ‘কিলিং মেশিন’ হিসেবে পরিচয় দিয়েছে অভিযুক্তরা। চিঠিতে সাফ জানানো হয়েছে, ১০ লক্ষ টাকা করে মোট ২০ লক্ষ টাকা কালো ব্যাগে ভরে সায়েন্স সিটির কাছে নির্দিষ্ট জায়গায় রেখে আসতে হবে। এমনকি চিরকুটে টাকা চেনার জন্য কোনো রাসায়নিক ব্যবহার করলে বা পুলিশকে জানালে ওই চিকিৎসক ও তাঁদের পরিবারকে একে একে খুন করা হবে বলেও চরম হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। নিজেদের গেরিলা যুদ্ধে পারদর্শী দাবি করে চিঠিতে অত্যাধুনিক মারণাস্ত্র ব্যবহারের হুমকিও রাখা হয়েছে।

রহস্যের আবর্তে প্রেরকের পরিচয়

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানিয়েছে, হুমকি চিঠিগুলো টাইপ করা এবং প্রতিটি খামের ওপর প্রেরকের নাম হিসেবে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের নামই ব্যবহার করা হয়েছে। এই কৌশলটি মূলত পুলিশের নজর এড়ানোর একটি চাল হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশের অনুমান, কোনো পরিচিত ব্যক্তি বা চিকিৎসকদের গতিবিধি সম্পর্কে সম্যক ধারণা আছে এমন কেউ এই ঘটনার নেপথ্যে থাকতে পারে। তবে ভোটের আবহে জঙ্গি সংগঠনের নাম ব্যবহার করা কেবল টাকা আদায়ের কৌশল নাকি এর পেছনে গভীর কোনো ষড়যন্ত্র রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এক ঝলকে

  • কলকাতার দুই চিকিৎসকের কাছে জঙ্গি সংগঠনের পরিচয় দিয়ে ২০ লক্ষ টাকা তোলা চেয়ে হুমকি চিঠি পাঠানো হয়েছে।
  • সায়েন্স সিটির কাছে নির্দিষ্ট স্থানে কালো ব্যাগে টাকা না রাখলে চিকিৎসক ও তাঁদের পরিবারকে খুনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
  • আনন্দপুর ও পূর্ব যাদবপুর থানায় অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
  • খামের ওপর প্রেরকের নাম হিসেবে চিকিৎসকদের নামই ব্যবহার করে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *