“পরমাণু বোমা লাগবে না, সাধারণ আঘাতেই শেষ হবে ইরান!”— তেহরানকে চরম হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

“পরমাণু বোমা লাগবে না, সাধারণ আঘাতেই শেষ হবে ইরান!”— তেহরানকে চরম হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

ইরান ও আমেরিকার মধ্যে চলমান চরম উত্তেজনার মাঝে বিশ্ববাসীকে কিছুটা আশ্বস্ত করে বড় ঘোষণা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরানের সঙ্গে সংঘাত যে পর্যায়েই যাক না কেন, আমেরিকা কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প দাবি করেন, সাধারণ ক্ষেপণাস্ত্র ও সামরিক আঘাতেই ইরানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তাই ধ্বংসাত্মক কোনো পারমাণবিক পদক্ষেপের প্রয়োজন নেই। তাঁর মতে, পরমাণু অস্ত্র এমন এক শক্তি যা কারো কাছে থাকা বা ব্যবহার করা উচিত নয়।

রণকৌশলে পর্যুদস্ত তেহরান

ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সংঘাতে ইরানের নৌবাহিনী, বায়ুসেনা এবং রাডার ও এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম কার্যত অকেজো হয়ে পড়েছে। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, ইরানের হাতে সময় ফুরিয়ে আসছে। কূটনৈতিক স্তরে তড়িঘড়ি কোনো চুক্তিতে না গিয়ে ট্রাম্প এমন একটি দীর্ঘমেয়াদী এবং টেকসই সমাধানের পথে হাঁটতে চাইছেন, যা আমেরিকার স্বার্থ রক্ষা করবে এবং বিশ্বশান্তি নিশ্চিত করবে। মূলত ইরানকে সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করে আলোচনার টেবিলে বাধ্য করাই এখন ওয়াশিংটনের মূল কৌশল।

সাগরপথে ত্রিমুখী ঘেরাও

সামরিক চাপ বজায় রাখতে পারস্য উপসাগর ও সংলগ্ন এলাকায় নিজেদের উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করেছে আমেরিকা। ভারত মহাসাগরে ইতিমধ্যে এসে পৌঁছেছে মার্কিন রণতরী ‘ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ’। এর পাশাপাশি আরব সাগরে ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন’ এবং লোহিত সাগরে ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’ মোতায়েন রয়েছে। এই ত্রিমুখী বিমানবাহী রণতরীর অবস্থান ইরানকে জলপথে কার্যত অবরুদ্ধ করে ফেলেছে। দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির সুযোগ নিয়ে ইরান শক্তি সঞ্চয়ের চেষ্টা করলেও আমেরিকার রণংদেহি মেজাজ তেহরানের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

এক ঝলকে

  • প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্টভাবে ইরানের বিরুদ্ধে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন।
  • মার্কিন সামরিক অভিযানে ইরানের বায়ুসেনা ও রাডার ব্যবস্থা অকেজো হয়ে যাওয়ার দাবি করা হয়েছে।
  • সমুদ্রপথে ইরানকে চাপে রাখতে ‘ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ’সহ তিনটি শক্তিশালী রণতরী মোতায়েন করেছে আমেরিকা।
  • তড়িঘড়ি কোনো চুক্তি নয়, বরং আমেরিকার স্বার্থ রক্ষাকারী দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির পক্ষে অনড় ওয়াশিংটন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *