‘দেখলেই গুলির নির্দেশ!’ হোরমুজ প্রণালীতে ইরানকে রুখতে ট্রাম্পের ৪টি মারাত্মক চাল

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ স্ট্রেইট অব হোর্মুজ নিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান গ্রহণ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত ২৪ ঘণ্টায় তিনি এমন চারটি বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যা তেহরানকে অর্থনৈতিক ও সামরিকভাবে চরম কোণঠাসা করার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ কোনো সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত এই প্রবল চাপ অব্যাহত থাকবে। বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতির আলোচনা চললেও উত্তেজনার পারদ এখন তুঙ্গে।
সামরিক তৎপরতা ও কঠোর হুঁশিয়ারি
হোর্মুজ প্রণালীকে নিরাপদ করতে ট্রাম্প মার্কিন নৌবাহিনীকে সেখানে বিছানো মাইন দ্রুত অপসারণের নির্দেশ দিয়েছেন। মার্কিন মাইনসুইপার জাহাজগুলো এখন আগের চেয়ে তিন গুণ দ্রুতগতিতে কাজ করছে। এর পাশাপাশি ট্রাম্পের দ্বিতীয় নির্দেশটি অত্যন্ত কঠোর; তিনি ‘শুট অ্যান্ড কিল’ নীতি ঘোষণা করেছেন। অর্থাৎ, কোনো ইরানি নৌকা বা যানকে মাইন বসানোর চেষ্টা করতে দেখলেই কোনো দ্বিধা না করে সরাসরি ধ্বংস করার আদেশ দেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপ ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডসের প্রভাব প্রতিহত করার একটি সরাসরি প্রচেষ্টা।
অর্থনৈতিক অবরোধ ও তেলের বাজারে প্রভাব
ইরানকে আলোচনার টেবিলে বাধ্য করতে ট্রাম্প তাদের তেলের বাজারের ওপর বড় আঘাত হেনেছেন। মার্কিন নৌবাহিনীর বিদ্যমান অবরোধ বা ব্লকেডকে তিন গুণ শক্তিশালী করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে ইরান কোনোভাবেই তেল রপ্তানি করতে না পারে। এর ফলে দেশটি প্রতিদিন কোটি কোটি ডলারের লোকসানের মুখে পড়ছে। ট্রাম্পের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো ইরানের তেল উৎপাদন ব্যবস্থা সম্পূর্ণ অচল করে দেওয়া। তবে এই সংঘাতের ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এক ঝলকে
- হোর্মুজ প্রণালীতে ইরানের মাইন সরানোর কাজ তিন গুণ দ্রুত করার নির্দেশ দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
- মাইন স্থাপনের চেষ্টা করলে ইরানি নৌকা দেখামাত্রই গুলির (শুট অ্যান্ড কিল) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
- ইরানের তেল রপ্তানি ও বন্দর পুরোপুরি অচল করতে মার্কিন নৌ অবরোধ তিন গুণ জোরদার করা হয়েছে।
- পূর্ণাঙ্গ সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করার নীতিতে অটল রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।