সখী নয়, জীবনসাথী! দুই তরুণীর প্রেম গড়াল বিয়ের জেদে, বসল সালিশি সভা

সখী নয়, জীবনসাথী! দুই তরুণীর প্রেম গড়াল বিয়ের জেদে, বসল সালিশি সভা

ভালোবাসার টানে ঘর ছাড়ার জেদ আর দুই তরুণীর বিয়ে করার ঘোষণা ঘিরে উত্তরপ্রদেশে শোরগোল পড়ে গেছে। ডিডৌলি এবং গজরৌলা থানা এলাকার দুই তরুণী একে অপরের সাথে জীবন কাটানোর সিদ্ধান্তে অটল থাকায় দুই পরিবার চরম সংকটে পড়ে। গত দুই বছর ধরে চলে আসা এই গভীর বন্ধুত্ব শেষ পর্যন্ত বিয়ের দাবিতে রূপ নেওয়ায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

বন্ধুত্ব থেকে পরিণয়ের দাবি

জানা গেছে, প্রায় দুই বছর আগে এক আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ২০ বছর বয়সী ওই তরুণীর সাথে অন্য তরুণীর পরিচয় হয়। দীর্ঘদিনের মেলামেশা এবং একে অপরের বাড়িতে যাতায়াতের সুবাদে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তবে বুধবার সকালে গজরৌলার তরুণীটি ডিডৌলি এলাকায় তার সঙ্গীর বাড়িতে পৌঁছালে পুরো বিষয়টি সামনে আসে। পরিবারের সদস্যদের সামনে তারা স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, তারা একে অপরকে ভালোবাসেন এবং দ্রুত বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে চান।

সামাজিক চাপ ও পঞ্চায়েতি মীমাংসা

পরিবার এই অস্বাভাবিক দাবি মেনে নিতে অস্বীকার করলে দুই তরুণী হট্টগোল শুরু করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং আইনি জটিলতা এড়াতে দুই পক্ষ আত্মীয়-স্বজনদের নিয়ে একটি জরুরি পঞ্চায়েত সভার আয়োজন করে। দীর্ঘ আলোচনার পর পঞ্চায়েতের সদস্যদের মধ্যস্থতায় সাময়িকভাবে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়। শেষ পর্যন্ত গজরৌলার তরুণীকে তার পরিবারের সদস্যরা বুঝিয়ে বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে যান।

প্রশাসন ও আইনি পরিস্থিতি

এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি। স্থানীয় ডিডৌলি থানার পরিদর্শক অজয় কুমার জানিয়েছেন, বিষয়টি সম্পর্কে তাদের কাছে দাপ্তরিকভাবে কোনো তথ্য নেই। সামাজিক ও পারিবারিক রক্ষণশীলতার কারণে বিষয়টি আপাতত ঘরোয়াভাবেই নিষ্পত্তির চেষ্টা চলছে, তবে দুই তরুণীর জেদ সামাজিক কাঠামো এবং আইনি স্বীকৃতির প্রশ্নে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

এক ঝলকে

  • উত্তরপ্রদেশের দুই তরুণী দীর্ঘ দুই বছরের সম্পর্কের পর একে অপরকে বিয়ের ঘোষণা দিয়েছেন।
  • পরিবারের পক্ষ থেকে বিয়েতে অস্বীকৃতি জানালে তরুণীরা দীর্ঘক্ষণ হট্টগোল ও বিক্ষোভ করেন।
  • পুলিশি অভিযোগ না করে পঞ্চায়েতি আলোচনার মাধ্যমে তরুণীদের শান্ত করে আলাদা করা হয়েছে।
  • স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি সম্পর্কে অবগত থাকলেও কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *