হিন্দু ধর্মে সবার দাহ করা নিষেধ! কেন শিশু ও সাধু-সন্তদের শেষকৃত্যে অন্য নিয়ম?

হিন্দু ধর্মে সবার দাহ করা নিষেধ! কেন শিশু ও সাধু-সন্তদের শেষকৃত্যে অন্য নিয়ম?

হিন্দুধর্মে ষোলোটি প্রধান সংস্কারের মধ্যে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। গরুড় পুরাণের বিধান অনুযায়ী, সাধারণ মানুষের মৃত্যুর পর মরদেহ দাহ করার নিয়ম থাকলেও শিশু এবং সন্ন্যাসীদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম খাটে না। হাজার বছরের এই ধর্মীয় রীতি ও আধ্যাত্মিক দর্শনের পেছনে মূলত জাগতিক মায়ার অনুপস্থিতি এবং আত্মার শুদ্ধতাকে প্রধান কারণ হিসেবে গণ্য করা হয়।

জাগতিক মায়াহীন পবিত্র আত্মা

শাস্ত্রীয় বিধান মতে, যদি কোনো শিশু গর্ভে থাকাকালীন বা দুই বছর বয়সের আগে মারা যায়, তবে তার অগ্নিসংস্কার করা হয় না। মনে করা হয়, এত অল্প বয়সে শিশুর আত্মার সঙ্গে তার পার্থিব শরীরের কোনো গভীর টান বা মায়া তৈরি হয় না। জাগতিক সুখ-দুঃখের অনুভূতি স্পর্শ করার আগেই শরীর ত্যাগ করায় এই আত্মাগুলো অত্যন্ত শুদ্ধ থাকে। এই সহজ ও দ্রুত মুক্তির কারণেই শিশুদের দাহ করার পরিবর্তে সমাহিত করা বা পবিত্র নদীতে বিসর্জন দেওয়ার রীতি প্রচলিত।

সন্ন্যাসীদের ত্যাগের মহিমা

অন্যদিকে, সাধু ও সন্ন্যাসীদের ক্ষেত্রেও অগ্নিসংস্কারের পরিবর্তে সমাধি দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। একজন সন্ন্যাসী জীবিত থাকাবস্থায় কঠোর তপস্যা ও বৈরাগ্যের মাধ্যমে যাবতীয় পার্থিব মোহ পরিত্যাগ করেন। তিনি নিজেকে জাগতিক মায়া থেকে আগেই মুক্ত করে নেওয়ায় মৃত্যুর পর তার নশ্বর দেহকে পোড়ানোর কোনো আধ্যাত্মিক প্রয়োজন থাকে না। তাদের পবিত্রতা ও ত্যাগের প্রতীক হিসেবেই মূলত দাফন বা জলসমাধি দেওয়া হয়।

এই প্রথার মূল প্রভাব মূলত বিশ্বাস ও আধ্যাত্মিক দর্শনের ওপর ভিত্তি করে টিকে আছে। সনাতন সমাজ ব্যবস্থায় মৃতদেহের সৎকার পদ্ধতি কেবল একটি অন্তিম বিদায় নয়, বরং তা আত্মার পরবর্তী যাত্রার প্রস্তুতি হিসেবে দেখা হয়। শিশু ও সন্ন্যাসীদের মায়ামুক্তির এই স্বতন্ত্র পথ হিন্দু অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া বিধিতে এক অনন্য আধ্যাত্মিক মাত্রা যোগ করেছে।

এক ঝলকে

  • গরুড় পুরাণের বিধান অনুযায়ী শিশু ও সন্ন্যাসীদের মৃতদেহ দাহ করা নিষেধ।
  • দুই বছরের কম বয়সী শিশুদের দেহের প্রতি আত্মার মায়া তৈরি হয় না বলে তাদের সমাহিত করা হয়।
  • সন্ন্যাসীরা জীবিতকালেই মোহ ত্যাগ করেন বলে তাদের পবিত্র দেহকে সমাধি দেওয়া হয়।
  • ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, মায়াহীন শুদ্ধ আত্মার জন্য অগ্নিসংস্কারের প্রয়োজন পড়ে না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *