পেটের দায়ে অঙ্গদান! যে গ্রামের মানুষের বেঁচে থাকার সম্বল শুধুই একটি কিডনি

পেটের দায়ে অঙ্গদান! যে গ্রামের মানুষের বেঁচে থাকার সম্বল শুধুই একটি কিডনি

আফগানিস্তানের হেরাত প্রদেশের শেণশায়বা বাজার গ্রামের দৃশ্য যে কোনো সুস্থ মানুষকে শিউরে দেবে। আপাতদৃষ্টিতে সাধারণ মনে হলেও এই গ্রামের অধিকাংশ বাসিন্দার শরীরে কেবল একটি করে কিডনি রয়েছে। পুরুষ হোক বা নারী, প্রায় প্রতিটি ঘরেই পাওয়া যাবে এমন মানুষ যারা সুস্থ জীবনের স্বাভাবিক চাহিদা বিসর্জন দিয়ে একটি অঙ্গ হারিয়েছেন। জন্মগত কোনো ত্রুটি নয়, বরং নিছক বেঁচে থাকার তাগিদেই তারা এই চরম পথ বেছে নিয়েছেন।

পেটের দায়ে অঙ্গ বিসর্জন

ভয়াবহ দারিদ্র্য ও চরম অভাবের কারণে এখানকার মানুষ নিজেদের কিডনি বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। দীর্ঘদিনের গৃহযুদ্ধ ও রাজনৈতিক অস্থিরতায় জর্জরিত আফগানিস্তানে কর্মসংস্থানের অভাব এতটাই প্রকট যে, পরিবারের জন্য দু’বেলা খাবার জোগাড় করাই আসাম্ভবের নামান্তর। ব্ল্যাক মার্কেটে বা অবৈধ বাজারে দুই থেকে আড়াই লাখ আফগানি মুদ্রার বিনিময়ে তারা শরীরের গুরুত্বপূর্ণ এই অঙ্গটি বিক্রি করে দিচ্ছেন। প্রাপ্ত এই অর্থ দিয়ে কয়েক মাস বা বছরের খাবারের সংস্থান হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্বের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এক একটি পরিবার।

তালিবান শাসন ও ঘনীভূত সংকট

আফগানিস্তানে তালিবান ক্ষমতা দখলের পর দেশটির অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আরও শোচনীয় হয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক সাহায্য বন্ধ হওয়া এবং নিষেধাজ্ঞার ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান তলানিতে ঠেকেছে। শেণশায়বা বাজার গ্রামের বাসিন্দাদের অভিযোগ, তাদের সামনে ক্ষুধার জ্বালায় মৃত্যুবরণ অথবা অঙ্গ বিক্রি করে বেঁচে থাকার চেষ্টা ছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই। ফলে দিন দিন বাড়ছে অঙ্গ পাচারকারী ও দালালদের দৌরাত্ম্য, যা গোটা অঞ্চলের জনস্বাস্থ্যকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

এক ঝলকে

  • আফগানিস্তানের হেরাত প্রদেশের শেণশায়বা বাজার গ্রামের অধিকাংশ মানুষের শরীরে মাত্র একটি করে কিডনি রয়েছে।
  • চরম দারিদ্র্য ও ক্ষুধার জ্বালা মেটাতে পরিবারের খাবারের অর্থ জোগাড় করতে তারা নিজের কিডনি বিক্রি করছেন।
  • তালিবান শাসনামলে অর্থনৈতিক সংকট ও বেকারত্ব আরও বাড়ায় অঙ্গ বিক্রির এই হার আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
  • চিকিৎসার অভাবে পরবর্তী সময়ে এসব মানুষ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন, যা দীর্ঘমেয়াদী সংকটের সৃষ্টি করছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *