“কেন অসুরক্ষিত কন্যারা?” গাজিপুর কাণ্ডে মোদী-যোগীকে কাঠগড়ায় তুলে গর্জে উঠলেন রাহুল গান্ধী!

উত্তর প্রদেশের গাজিপুরে এক তরুণীকে ধর্ষণ ও নৃশংস হত্যার ঘটনায় যোগী আদিত্যনাথ প্রশাসন এবং নরেন্দ্র মোদী সরকারের নারী নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলেছেন লোকসভার বিরোধী দলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। গত ১৫ এপ্রিল গাজিপুরের করন্ডা এলাকায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে স্থানীয় রাজনীতি, যার রেশ পৌঁছেছে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত। রাহুল গান্ধীর দাবি, উত্তর প্রদেশে নারীদের ওপর নির্যাতন এখন একটি নির্দিষ্ট ‘প্যাটার্নে’ পরিণত হয়েছে, যেখানে অপরাধী সুরক্ষা পায় আর ভুক্তভোগী পরিবারকে বিচারের জন্য লড়াই করতে হয়।
বিচারের দাবিতে সোচ্চার কংগ্রেস নেতৃত্ব
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, গাজিপুরের এই ঘটনায় এফআইআর দায়ের করতে পরিবারকে পুলিশি অনীহা ও হুমকির মুখে পড়তে হয়েছে। হাতরাস, উন্নাও কিংবা কাঠুয়ার মতো ঘটনার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, বারবার দলিত, অনগ্রসর বা আদিবাসী নারীরাই নিগ্রহের শিকার হচ্ছেন। তার মতে, যে শাসনব্যবস্থায় একজন বাবা-মাকে মেয়ের হত্যার বিচার চাইতে ভিক্ষা করতে হয়, সেই সরকারের ক্ষমতায় থাকার নৈতিক অধিকার নেই। দোষী পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং উচ্চপর্যায়ের তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
নারীদের নিরাপত্তাহীনতা ও রাজনৈতিক প্রভাব
কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধীও এই ইস্যুতে বিজেপি সরকারের কড়া সমালোচনা করেছেন। তার মতে, গাজিপুরের ঘটনা প্রমাণ করে যে উত্তর প্রদেশে নারী নির্যাতন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। তিনি অভিযোগ করেন, যেকোনো নারীঘটিত অপরাধের ক্ষেত্রে বিজেপি প্রশাসন পরোক্ষভাবে অপরাধীদের পক্ষ নেয় এবং ভুক্তভোগীদের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা করে। ঘটনার জেরে স্থানীয় এলাকায় সমাজবাদী পার্টির প্রতিনিধিদল পরিদর্শনে গেলে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়ায় এবং পাথর ছোঁড়ার মতো ঘটনাও ঘটে। এই রাজনৈতিক অস্থিরতা রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নারীর নিরাপত্তা নিয়ে জনমনে ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
এক ঝলকে
- গাজিপুরের করন্ডায় ১৫ এপ্রিল এক তরুণীকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত হরিওম পাণ্ডেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
- এফআইআর দায়ের করতে বাধা প্রদান এবং পরিবারকে হুমকির অভিযোগ তুলে মোদী-যোগী সরকারকে আক্রমণ করেছেন রাহুল গান্ধী।
- বিরোধী নেতাদের মতে হাতরাস ও উন্নাওয়ের মতো গাজিপুরেও অপরাধীদের রাজনৈতিকভাবে সুরক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
- এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত ও দোষী পুলিশ কর্মীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছে বিরোধী শিবির।