টিসিএস কাণ্ড: শির খুরমায় মাদক মিশিয়ে খাওয়ানো হয় কর্মীকে! ফেস আইডি খুলে দানিশের মোবাইলে মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য!

টিসিএস কাণ্ড: শির খুরমায় মাদক মিশিয়ে খাওয়ানো হয় কর্মীকে! ফেস আইডি খুলে দানিশের মোবাইলে মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য!

নাসিকের টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস (TCS) ইউনিটে কর্মীকে মাদক খাইয়ে ধর্মান্তকরণ ও ব্ল্যাকমেলের ঘটনায় একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য উঠে আসছে। বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) এই মামলার অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত দানিশ শেখের লক করা স্মার্টফোনটি আনলক করতে সক্ষম হয়েছে। ফেস আইডি এবং জটিল পাসওয়ার্ড দিয়ে সুরক্ষিত ওই ফোনের তথ্য উদ্ধারে প্রথমে ব্যর্থ হলেও, শেষ পর্যন্ত আদালতের অনুমতিতে অভিযুক্তের ফেস স্ক্যান করিয়ে ডিভাইসটি খোলা হয়। গোয়েন্দাদের ধারণা, এই এনক্রিপ্টেড তথ্য থেকেই ধর্মান্তকরণ চক্রের মূল নেটওয়ার্ক ও ডিজিটাল প্রমাণ পাওয়া সম্ভব হবে।

মাদক মেশানো খাবার ও ব্ল্যাকমেলের কৌশল

তদন্তে জানা গেছে, ইদের দিন এক সহকর্মীকে অভিযুক্ত তৌসিফ আত্তারের বাড়িতে নিমন্ত্রণ করে মাদক মেশানো ‘শির খুরমা’ খাওয়ানো হয়েছিল। সেই খাবার খাওয়ার পর ওই কর্মী দিশেহারা হয়ে পড়লে তাঁর পারিবারিক সমস্যাকে ‘কালো জাদু’র প্রভাব বলে ভয় দেখানো হয়। আধ্যাত্মিক সমাধানের নাম করে তাঁকে দিয়ে বিশেষ ধর্মীয় কাজ করিয়ে সেই ভিডিও ও ছবি তুলে রাখা হয়। পরবর্তীতে সেই ছবিগুলো অফিসের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে শুরু হয় ব্ল্যাকমেল। এমনকি ওই কর্মীর ক্যারিয়ার নষ্ট করতে ঊর্ধ্বতনদের কাছে ভুয়া রিপোর্ট পাঠিয়ে তাঁকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করা হতো।

অভিযোগের ব্যাপকতা ও আইনি পদক্ষেপ

এই ঘটনায় কেবল ধর্মান্তকরণ নয়, বরং নারী নিগ্রহের মতো গুরুতর অভিযোগও যুক্ত হয়েছে। অফিসের একাধিক নারী কর্মী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ দায়ের করেছেন। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় টিসিএস কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে অভিযুক্ত সাতজনকেই চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে। বর্তমানে তৌসিফ বিলাল আত্তার ও দানিশ শেখসহ চার মূল অভিযুক্তকে হেফাজতে নিয়েছে মুম্বই নাকা পুলিশ। তদন্তকারীরা এখন সেই সমস্ত হোটেল ও দোকান শনাক্ত করার চেষ্টা করছেন, যেখানে নির্যাতিতকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে থাকাকালীন এই চক্রের পেছনে কোনো আন্তর্জাতিক অর্থায়ন বা বড় কোনো ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।

এক ঝলকে

  • মাদক মেশানো খাবার খাইয়ে এবং ‘কালো জাদু’র ভয় দেখিয়ে এক টিসিএস কর্মীকে ধর্মান্তকরণের চেষ্টা।
  • মূল অভিযুক্ত দানিশ শেখের মোবাইল ফোন ফেস আইডি স্ক্যান করে আনলক করেছে পুলিশ।
  • ধর্মান্তকরণের পাশাপাশি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নারী সহকর্মীদের শ্লীলতাহানির অভিযোগ ও ৯টি এফআইআর দায়ের।
  • ঘটনার দায়ে ৭ জন কর্মীকে সাসপেন্ড করেছে টিসিএস কর্তৃপক্ষ; ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে অভিযুক্তরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *