ভোট মিটলেও অশান্ত বহরমপুর! রাতে থানায় অধীর, কর্মীদের উপর হামলার অভিযোগে উত্তাল মুর্শিদাবাদ

প্রথম দফার ভোট মিটলেও উত্তাপ কমেনি মুর্শিদাবাদে। শনিবার রাতে বহরমপুর বিধানসভা কেন্দ্রের সাইদাবাদ এলাকায় ব্যাপক ভাঙচুর ও হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ, স্থানীয় কংগ্রেস নেতা কৃষ্ণ ঘোষসহ একাধিক কর্মীর বাড়িতে ইটবৃষ্টি ও তাণ্ডব চালিয়েছে শাসকদলের আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। ঘটনায় বেশ কয়েকজন কংগ্রেস কর্মী আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে।
হামলার নেপথ্যে অভিযোগ ও পুলিশের ভূমিকা
হামলার খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছান বহরমপুরের কংগ্রেস প্রার্থী অধীর চৌধুরী। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলে সরাসরি বহরমপুর থানায় গিয়ে বিক্ষোভ দেখান। কংগ্রেসের দাবি, এলাকায় ভীতি প্রদর্শন করতে এবং পোলিং এজেন্টদের দমাতে পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে। বিশেষ করে নারীদের ওপর শ্লীলতাহানির যে অভিযোগ উঠেছে, তা নিয়ে ক্ষোভ আরও বেড়েছে। ঘটনায় পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার দিকে আঙুল তুলেছেন কংগ্রেস নেতৃত্ব।
নির্বাচন কমিশনে নালিশ ও রাজনৈতিক তরজা
এই সহিংসতার প্রতিকার চেয়ে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছে কংগ্রেস। চিঠিতে সুনির্দিষ্টভাবে স্থানীয় এক দুষ্কৃতী ও তার অনুগামীদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনকে দায়ী করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন অধীর চৌধুরী। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস এই ঘটনার সঙ্গে রাজনীতির যোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, এটি নিছকই পারিবারিক বিবাদ বা গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফল, যার সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই।
সম্ভাব্য প্রভাব
ভোটের পরবর্তী পর্যায়ে এমন হিংসাত্মক ঘটনা সাধারণ ভোটারদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে মুর্শিদাবাদের মতো রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর জেলায় এই অস্থিরতা পরবর্তী দফাগুলোর নির্বাচনী পরিবেশকে আরও জটিল করে তোলার আশঙ্কা থাকছে।
এক ঝলকে
- বহরমপুরের সাইদাবাদ এলাকায় কংগ্রেস কর্মীদের বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর ও মারধর।
- আহত কর্মীদের দেখতে হাসপাতালে যান অধীর চৌধুরী এবং রাতেই থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
- ঘটনার বিচার চেয়ে এবং পুলিশের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনে চিঠি।
- তৃণমূলের পক্ষ থেকে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে ঘটনাটিকে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব হিসেবে দাবি করা হয়েছে।