“ওদের ১০টা ভোট জেতারও ক্ষমতা নেই!” দলবদলু আপ সাংসদদের ধুয়ে দিলেন ওমর আবদুল্লা

জাতীয় রাজনীতিতে আম আদমি পার্টির (আপ) সাতজন রাজ্যসভা সাংসদের বিজেপিতে যোগদানের ঘটনা নিয়ে যখন তোলপাড় চলছে, তখন একে বিন্দুমাত্র গুরুত্ব দিতে নারাজ জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা। তাঁর মতে, দলবদল ভারতের রাজনীতিতে নতুন কোনো ঘটনা নয়। তিনি ন্যাশনাল কনফারেন্সের অতীত অভিজ্ঞতার কথা মনে করিয়ে দিয়ে জানান যে, ক্ষমতাশালী দলগুলো প্রায়ই এমন পরিস্থিতির শিকার হয়। ১৯৮৪ সালেও বিধায়ক কেনাবেচার মাধ্যমে তাঁর বাবার মন্ত্রিসভা ভেঙে দেওয়া হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্যারাস্যুট রাজনীতি ও ওমরের আক্রমণ
ওমর আবদুল্লা দাবি করেছেন, যে সাংসদরা দলবদল করেছেন তাঁরা আদতে ‘প্যারাস্যুট’ নেতা। আম আদমি পার্টির মাধ্যমে সরাসরি রাজ্যসভায় ঠাঁই পাওয়া এই ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত কোনো জনভিত্তি নেই। তাঁর কড়া সমালোচনা, এই সাংসদদের মধ্যে এমন একজনও নেই যিনি নিজের ক্ষমতায় একটি পঞ্চায়েত নির্বাচনেও জয়লাভ করতে পারেন। ফলে এঁদের দলত্যাগে আপ সাময়িকভাবে খবরের শিরোনামে এলেও দীর্ঘমেয়াদে দলের বড় কোনো ক্ষতি হবে না বলেই তিনি মনে করেন।
বিজেপির প্রাপ্তি বনাম বাস্তবতা
বিজেপিতে এই সাংসদদের যোগদানকে গেরুয়া শিবিরের জন্য মূল্যহীন বলে অভিহিত করেছেন ওমর। তিনি স্পষ্ট জানান, এই ব্যক্তিরা যদি সত্যিই দক্ষ হতেন তবে তাঁরা বিধায়ক বা লোকসভা সাংসদ হিসেবে নির্বাচিত হয়ে আসতেন। ওমরের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, নির্বাচনী ময়দানে এই সাত সাংসদ বিজেপিকে অতিরিক্ত ১০টি ভোট এনে দেওয়ার ক্ষমতাও রাখেন না। তাই এই দলবদল কেবল চাঞ্চল্য তৈরি করলেও ভোটের রাজনীতিতে এর কোনো বাস্তব প্রভাব পড়বে না।
এক ঝলকে
- আপের সাত রাজ্যসভা সাংসদের বিজেপিতে যোগ দেওয়াকে গুরুত্বহীন বললেন ওমর আবদুল্লা।
- দলত্যাগীদের ‘প্যারাস্যুট’ নেতা অ্যাখ্যা দিয়ে তাঁদের ব্যক্তিগত জেতার ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
- ওমরের দাবি, এই সাংসদরা বিজেপিকে অতিরিক্ত ১০টি ভোটও এনে দিতে পারবেন না।
- দলবদলের রাজনীতিকে ভারতের পুরনো ‘আয়ারাম গয়ারাম’ সংস্কৃতির অংশ হিসেবে দেখছেন জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী।