হবু স্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের আগেই শেষ সব! ওষুধের অতিরিক্ত সেবনে প্রাণ হারালেন তরুণ

হবু স্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের আগেই শেষ সব! ওষুধের অতিরিক্ত সেবনে প্রাণ হারালেন তরুণ

হরিয়ানার গুরুগ্রামে এক মর্মান্তিক ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। হবু স্ত্রীর সাথে দেখা করার উত্তেজনায় যৌন ক্ষমতা বৃদ্ধিকারী ওষুধের অতিরিক্ত সেবন বা ওভারডোজের কারণে ২৯ বছর বয়সী এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। মৃত যুবকের নাম রোহিত লাল, যিনি নাগপুরের বাসিন্দা এবং দিল্লির ‘কোয়ালিটি কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া’-তে কর্মরত ছিলেন। কর্মস্থল থেকে দূরে গুরুগ্রামের সেক্টর ৫৩ এলাকায় একটি পেইং গেস্ট (পিজি) হিসেবে তিনি বসবাস করতেন।

ঘটনার বিবরণ ও পুলিশের তদন্ত

বৃহস্পতিবার সকালে ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন রোহিতের এক সহকর্মী তাকে অফিসে যাওয়ার জন্য বারবার ফোন করেও কোনো সাড়া পাননি। দীর্ঘক্ষণ ঘরের দরজা না খোলায় সন্দেহ জাগলে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ এসে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে বিছানায় রোহিতের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে। ঘর তল্লাশি চালিয়ে বেশ কিছু যৌন উত্তেজক ওষুধের খালি প্যাকেট এবং হেলথ সাপ্লিমেন্ট উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, ওইদিন রোহিতের তার হবু স্ত্রীর সাথে দেখা করার কথা ছিল এবং সেই উদ্দেশ্যেই তিনি চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই এসব ওষুধ সেবন করেছিলেন।

অসচেতনতার ভয়াবহ প্রভাব

চিকিৎসকদের মতে, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এবং শারীরিক সক্ষমতা না বুঝে এই ধরনের ওষুধের ওভারডোজ হৃদযন্ত্রের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করে, যার ফলে তীব্র কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট বা হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। সেক্টর ৫৩ থানার এসএইচও সত্যেন্দ্র রাওয়াল জানিয়েছেন, লাশের ভিসেরা পরীক্ষার জন্য ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো হয়েছে এবং পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট আসার পরই মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। তবে প্রাথমিকভাবে এটিকে ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াজনিত মৃত্যু বলেই ধারণা করা হচ্ছে। এই ঘটনাটি বর্তমানে যুবসমাজের মধ্যে সচেতনহীনভাবে ওষুধ ব্যবহারের ঝুঁকিকে আবারও সামনে এনে দিয়েছে।

এক ঝলকে

  • গুরুগ্রামে হবু স্ত্রীর সাথে দেখা করার আগে ওষুধের ওভারডোজে ২৯ বছর বয়সী যুবকের মৃত্যু।
  • নিহত রোহিত লাল পেশায় দিল্লির একটি সরকারি সংস্থার কর্মী এবং নাগপুরের বাসিন্দা ছিলেন।
  • ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ যৌন উত্তেজক ওষুধের খালি প্যাকেট ও সাপ্লিমেন্ট উদ্ধার করেছে।
  • ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক রিপোর্টের ভিত্তিতে ঘটনার চূড়ান্ত তদন্ত চলছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *