ছয় সিপিএম কর্মী খুনে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ৪৫ জনের মুক্তি এবং তৃণমূলে সংবর্ধনা

ছয় সিপিএম কর্মী খুনে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ৪৫ জনের মুক্তি এবং তৃণমূলে সংবর্ধনা

ঝাড়গ্রামের দিয়াশী গ্রামে ছয় সিপিএম কর্মীকে নৃশংসভাবে খুনের মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ৪৫ জন আসামি অবশেষে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। কলকাতা হাইকোর্ট শর্তসাপেক্ষে তাঁদের জামিন মঞ্জুর করার পর সংশোধনাগার থেকে বেরিয়ে আসেন তাঁরা। শনিবার সন্ধ্যায় আসামিদের মুক্তিতে ঝাড়গ্রামের শিলদা বাজারে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে মুক্তিপ্রাপ্তদের গলায় মালা পরিয়ে বর্ণাঢ্য মিছিল বের করা হয়, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।

রাজনৈতিক সংবর্ধনা ও বর্তমান পরিস্থিতি

কারামুক্ত ৪৫ জন কর্মীকে বরণ করে নিতে শিলদায় উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল নেতা ছত্রধর মাহাতো এবং বেলপাহাড়ি ব্লক তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব। ১৯৯৩ সালের মে মাসে তৎকালীন অতিরিক্ত জেলাশাসক মহেন্দ্রনাথ হেমব্রম খুনের জের ধরে দিয়াশী গ্রামে পাল্টা হামলার অভিযোগ ওঠে। ওই হামলায় ছয় সিপিএম কর্মীকে জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে অঙ্গচ্ছেদ করে হত্যার অভিযোগ ছিল। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে গত বছরের ডিসেম্বরে আদালত তাঁদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিলেও উচ্চ আদালতের হস্তক্ষেপে তাঁরা জামিন পেলেন।

বিচারের দীর্ঘ পথ ও ভবিষ্যৎ প্রভাব

দীর্ঘ তিন দশক ধরে চলা এই মামলায় মোট ১৫০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। দীর্ঘসূত্রিতার কারণে এর মধ্যেই ৩৯ জন অভিযুক্তের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৯ জন এখনও নিখোঁজ। পুলিশের দাখিল করা চার্জশিট ও সাক্ষীদের বয়ানের ভিত্তিতে নিম্ন আদালত ৪৫ জনকে দোষী সাব্যস্ত করেছিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বিপুল সংখ্যক সাজাপ্রাপ্তের মুক্তি এবং তাঁদের প্রকাশ্য সংবর্ধনা এলাকার রাজনৈতিক সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে জঙ্গলমহলের পুরনো রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব এই ঘটনার পর নতুন মাত্রা পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

এক ঝলকে

  • ১৯৯৩ সালের দিয়াশী গ্রাম হত্যাকাণ্ডে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ৪৫ জন আসামি জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।
  • কলকাতা হাইকোর্ট শর্তসাপেক্ষে আসামিদের জামিন মঞ্জুর করার পর জেল থেকে ছাড়া পান তাঁরা।
  • তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্বে শিলদা বাজারে মুক্তিপ্রাপ্তদের মালা পরিয়ে সংবর্ধনা ও মিছিল করা হয়েছে।
  • ছত্রধর মাহাতো সহ তৃণমূলের ব্লক স্তরের নেতারা এই সংবর্ধনা কর্মসূচিতে সরাসরি অংশ নেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *