শৈল্পিক সম্প্রীতির বাংলায় কেন বাড়ছে বিভাজনের রাজনীতি! অশোক গেহলটের নিশানায় দুর্নীতি ও কুশাসন

পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং বিজেপির শক্তিবৃদ্ধি নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন রাজস্থানের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা অশোক গেহলট। রবিবার কলকাতা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে তিনি রাজ্যের বর্তমান শাসন-ব্যবস্থার সমালোচনা করে দাবি করেন, প্রশাসনের ব্যর্থতার কারণেই এখানে বিজেপির প্রভাব বাড়ছে। গেহলটের মতে, ঐতিহাসিকভাবে বাংলা বিভাজনের রাজনীতিকে প্রশ্রয় না দিলেও বর্তমান পরিস্থিতির সুযোগ নিচ্ছে গেরুয়া শিবির।
প্রশাসনের ব্যর্থতা ও দুর্নীতির অভিযোগ
অশোক গেহলট সরাসরি অভিযোগ তোলেন যে, রাজ্যে ক্রমবর্ধমান দুর্নীতি এবং প্রশাসনিক স্থবিরতা সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করেছে। এই জনরোষকে পুঁজি করেই বিজেপি এবং আরএসএস তাদের জমি শক্ত করার সুযোগ পাচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, যেখানে সুশাসন দুর্বল হয়, সেখানেই উগ্রবাদী বা বিভাজনমূলক শক্তির উত্থান ঘটে। বাংলার মতো রাজ্যে বিজেপির এই প্রভাব বিস্তারের নেপথ্যে শাসকদলের দায়বদ্ধতার অভাবকেই তিনি প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
বিভাজনের রাজনীতি ও প্রভাব
জাতীয় স্তরে বিজেপি এবং আরএসএস যেভাবে ধর্মের ভিত্তিতে মেরুকরণের রাজনীতি করছে, তার আঁচ এখন বাংলায় প্রবলভাবে অনুভূত হচ্ছে বলে মনে করেন এই কংগ্রেস নেতা। তিনি বলেন, বাংলা সব সময় সম্প্রীতির কথা বললেও বর্তমানে সেই পরিবেশ সংকটে। প্রশাসনিক স্বচ্ছতা না ফিরলে এবং দুর্নীতির শিকড় উপড়ে না ফেললে এই রাজনৈতিক মেরুকরণ ভবিষ্যতে রাজ্যের সামাজিক কাঠামোকে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
এক ঝলকে
- রাজ্যের প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও দুর্নীতির কারণেই বিজেপির প্রভাব বাড়ছে বলে দাবি অশোক গেহলটের।
- কলকাতা প্রেস ক্লাবে দাঁড়িয়ে বিজেপি ও আরএসএস-এর বিভাজনের রাজনীতির তীব্র সমালোচনা।
- বাংলার ঐতিহাসিক অসাম্প্রদায়িক চরিত্রে ফাটল ধরার জন্য বর্তমান শাসন-ব্যবস্থাকে দায়ী করেছেন তিনি।
- রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে বিজেপি জনরোষকে ব্যবহার করছে বলে মনে করেন রাজস্থানের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।