টাকার জোরে ভোট কেনার চেষ্টা কি সফল হবে! বিস্ফোরক দাবি মমতার

ভবানীপুরে নির্বাচনী প্রচারের উত্তাপ বাড়িয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ এনেছেন। কালীঘাটের জনসভা থেকে তিনি দাবি করেন, ওড়িশা সীমান্ত দিয়ে বহিরাগতদের রাজ্যে প্রবেশ করানো হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, একটি নির্দিষ্ট কালো রঙের স্করপিও গাড়িতে করে কয়েকশো কোটি টাকা ভবানীপুর ও চেতলার বিভিন্ন এলাকায় বিলি করার জন্য আনা হয়েছে। এমনকি প্রশাসনের একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিককে সরিয়ে দেওয়ার নেপথ্যেও সুপরিকল্পিত কোনো ছক রয়েছে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।
ভোটের ময়দানে কোটি কোটি টাকার খেলা
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি দাবি করেছেন যে, ভোটারদের প্রভাবিত করতে অঢেল অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে। তবে এই রণকৌশল কাজ করবে না বলে তিনি আত্মবিশ্বাসী। তাঁর কথায়, সাধারণ মানুষ টাকা নিলেও নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে অবিচল থাকবেন। অনেকেই তাঁকে জানিয়েছেন যে টাকা নিলেও তাঁরা নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকেই ভোট দেবেন। ভবানীপুরের রাজনৈতিক সচেতনতা ও নন্দীগ্রামের পরিস্থিতির মধ্যে পার্থক্য টেনে তিনি সতর্কবার্তা দিয়েছেন যে এখানে কোনোভাবেই ছাপ্পা বা লুটতরাজ সম্ভব হবে না।
রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনের ভূমিকা
নির্বাচনের ঠিক আগে বিপুল পরিমাণ অর্থের লেনদেন এবং পুলিশ প্রশাসনে রদবদল নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর এই বয়ান রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সীমান্ত পেরিয়ে ভিন রাজ্যের লোকজনের অনুপ্রবেশের অভিযোগ আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর বড় প্রশ্নচিহ্ন দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। এই পরিস্থিতির ফলে ভোটের দিন উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা যেমন রয়েছে, তেমনই নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও শাসক দল চাপ তৈরির কৌশল নিয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এক ঝলকে
- ওড়িশা সীমান্ত দিয়ে বহিরাগতদের রাজ্যে প্রবেশের অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর।
- কালো স্করপিও গাড়িতে কয়েকশো কোটি টাকা ভবানীপুরে বিলি করার দাবি।
- ভোটাররা টাকা নিলেও ভোট শাসক দলকেই দেবে বলে দাবি মমতার।
- নন্দীগ্রামের অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে কলকাতার ভোটে কড়া নজরদারির হুঁশিয়ারি।