ব্যারাকপুরের মঞ্চে মোদীর মাস্টারস্ট্রোক, বাংলার কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য ল্যাব ও বিপুল কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি

ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজার ঠিক শেষ মুহূর্তে ব্যারাকপুরের জনসভা থেকে বাংলার যুবক ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য একগুচ্ছ বড় ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রচারের শেষ দিনে দাঁড়িয়ে কলকাতাকে আগামী দিনের ‘সিটি অফ ফিউচার’ হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করার পাশাপাশি বাংলার সৃজনশীল অর্থনীতির পালে হাওয়া দিতে কনটেন্ট ক্রিয়েটর ল্যাব তৈরির মতো আধুনিক প্রতিশ্রুতিও উঠে এল তাঁর ভাষণে।
কনটেন্ট ক্রিয়েটর ল্যাব ও ক্রিয়েটিভ ইকোনমি
আধুনিক যুগের প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থানের দিকে নজর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, বাংলায় বিজেপি সরকার গঠন করলে স্কুল ও কলেজে ‘কনটেন্ট ক্রিয়েটর ল্যাব’ তৈরি করা হবে। তাঁর মতে, বাংলার যুবকদের মধ্যে যে সৃজনশীলতা রয়েছে, তাকে বিশ্বমঞ্চে পৌঁছে দিতে বড় ভূমিকা নেবে এই উদ্যোগ। ক্রিয়েটিভ ইকোনমি বা সৃজনশীল অর্থনীতির ওপর জোর দিয়ে তিনি দাবি করেন, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে বাংলার কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য নতুন রোজগারের দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
সরকারি চাকরি ও সপ্তম বেতন কমিশনের আশ্বাস
বাংলার সরকারি কর্মীদের দীর্ঘদিনের দাবিকে প্রাধান্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেন, রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় এলে সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর করা হবে। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন যে, বর্তমানে সরকারি কর্মীরা এক ধরণের ভয়ের পরিবেশে কাজ করছেন, যা থেকে তাঁদের মুক্ত করা হবে। নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগ তুলে মোদী প্রতিশ্রুতি দেন যে, ৪ মে-র পর শূন্যপদ পূরণে স্বচ্ছতা আনা হবে এবং যুবকদের হাতে সরাসরি নিয়োগপত্র তুলে দিতে আয়োজন করা হবে রোজগার মেলা। এছাড়া ১২৫ দিনের কাজের গ্যারান্টি এবং মৎস্যজীবীদের জন্য বিশেষ প্রকল্পের সুবিধাও তুলে ধরেন তিনি।
এই বিশ্লেষণের প্রেক্ষাপটে বোঝা যাচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী তাঁর শেষ জনসভায় প্রথাগত প্রতিশ্রুতির বাইরে গিয়ে ডিজিটাল যুগের চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়েছেন। এর ফলে তরুণ ভোটার এবং সরকারি কর্মচারীদের একটি বড় অংশকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। ৪ মে ফলাফল পরবর্তী শপথগ্রহণের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে মোদী কার্যত বাংলার ক্ষমতার পালাবদলের ব্যাপারে তাঁর আত্মবিশ্বাসের বার্তাই দিয়ে গেলেন।
এক ঝলকে
- বাংলার স্কুল ও কলেজে ‘কনটেন্ট ক্রিয়েটর ল্যাব’ তৈরির বিশেষ প্রতিশ্রুতি দিলেন প্রধানমন্ত্রী।
- রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর করার বড় ঘোষণা ব্যারাকপুরের সভায়।
- ৪ মে-র পর স্বচ্ছ নিয়োগ ও নিয়মিত রোজগার মেলা আয়োজনের মাধ্যমে শূন্যপদ পূরণের আশ্বাস।
- ১২৫ দিনের কাজ এবং পিএম বিশ্বকর্মা ও মৎস্য সম্পদ যোজনা পুরোপুরি চালুর অঙ্গীকার।