শুকিয়ে যেতে পারে নদী এবং তীব্র জলকষ্টে পড়ার ঝুঁকিতে ২০০ কোটি মানুষ!

শুকিয়ে যেতে পারে নদী এবং তীব্র জলকষ্টে পড়ার ঝুঁকিতে ২০০ কোটি মানুষ!

হিন্দুকুশ হিমালয় অঞ্চলে বরফ জমার হার আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পাওয়ায় এশিয়াজুড়ে ভয়াবহ জলসংকটের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি কাঠমান্ডুভিত্তিক গবেষণা সংস্থা আইসিআইএমওডি-র প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত ২৪ বছরের মধ্যে এবারই এই পর্বতমালায় সবচেয়ে কম তুষারপাত হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বিরূপ প্রভাবে পাহাড়ের বরফ গলে পুষ্ট হওয়া নদীগুলোর অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়তে পারে।

বিপজ্জনক মাত্রায় কমছে বরফ

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত চার বছর ধরেই হিন্দুকুশ হিমালয় অঞ্চলে তুষারপাতের পরিমাণ গড়ের তুলনায় অনেক নিচে থাকছে। চলতি শীত মৌসুমে বরফ জমার এই রেকর্ড পতন গত দুই দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। শীতকালে পর্যাপ্ত বরফ না জমলে গ্রীষ্মকালে নদীগুলোতে হিমবাহ গলা জলের সরবরাহ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায়। ফলে নদীনির্ভর বিশাল জনগোষ্ঠীর কৃষি, পানীয় জল এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিপর্যস্ত হতে পারে জনজীবন ও অর্থনীতি

হিন্দুকুশ হিমালয় থেকে উৎপন্ন নদীগুলোর ওপর সরাসরি নির্ভরশীল এশিয়ার কয়েকশ কোটি মানুষ। গবেষকদের মতে, বরফগলা জলের সঞ্চয় কম হলে গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও সিন্ধুর মতো প্রধান নদী অববাহিকাগুলোতে তীব্র খরা দেখা দিতে পারে। এতে অন্তত ২০০ কোটি মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জলকষ্টের শিকার হতে পারেন। এই পরিস্থিতি কেবল সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকেই নয়, বরং খাদ্য নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক অর্থনীতিকেও বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

এক ঝলকে

  • হিন্দুকুশ হিমালয়ে গত ২৪ বছরের মধ্যে এবার সর্বনিম্ন বরফ জমা হয়েছে।
  • গত চার বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে তুষারপাতের পরিমাণ গড়ের তুলনায় নিচে রয়েছে।
  • এর ফলে এশিয়ার বড় নদীগুলোতে জলের প্রবাহ কমে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
  • নদীনির্ভর প্রায় ২০০ কোটি মানুষ ভয়াবহ জলকষ্ট ও খাদ্য সংকটের কবলে পড়তে পারেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *