ভোটের লম্বা ছুটির পর স্কুল খুললেও অমিল পড়ুয়া! উত্তর ও গৌড়বঙ্গের ফাঁকা ক্লাসরুমে চিন্তার ভাঁজ

নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণ মিটতেই সোমবার থেকে উত্তরবঙ্গ ও গৌড়বঙ্গের স্কুলগুলোতে পুনরায় পঠনপাঠন শুরু হয়েছে। গত ১২ এপ্রিল থেকে প্রায় ১৫ দিনের দীর্ঘ বিরতির পর স্কুলের ঘণ্টা বাজলেও, শ্রেণিকক্ষের চেনা ছবিটা ফিরল না। বেশিরভাগ বিদ্যালয়ে পড়ুয়াদের উপস্থিতি এতই নগণ্য যে তা নিয়ে রীতিমতো উদ্বেগে শিক্ষা মহল। ফাঁকা বেঞ্চ আর নিস্তব্ধ ক্লাসরুম যেন এক বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করেছে।
হাতেগোনা উপস্থিতি: চিত্রটা ঠিক কেমন?
তপন ও সংলগ্ন এলাকার উচ্চ বিদ্যালয়গুলোতে সোমবার যে দৃশ্য ধরা পড়েছে, তা মোটেই আশাব্যঞ্জক নয়।
- তপন গার্লস হাইস্কুল: এখানে প্রায় প্রতিটি শ্রেণিতে মাত্র ২ থেকে ৩ জন ছাত্রীর দেখা মিলেছে।
- বালাপুর হাইস্কুল: এই স্কুলে মোট উপস্থিতির সংখ্যা একশোর গণ্ডিও পার করতে পারেনি।
- তপন হাইস্কুল: এখানেও পড়ুয়াদের আনাগোনা ছিল অত্যন্ত কম।
- রামচন্দ্রপুর হাইস্কুল: তুলনামূলকভাবে এখানে ১৪৮ জন ছাত্রছাত্রী উপস্থিত থাকলেও, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় এই সংখ্যাটি বেশ কম।
কেন এই অনীহা?
দীর্ঘ ছুটির পর স্কুলমুখী হওয়ার ক্ষেত্রে পড়ুয়াদের এই অনীহা নিয়ে দানা বাঁধছে নানা প্রশ্ন। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে এর সম্ভাব্য কারণ হতে পারে:
১. সচেতনতার অভাব: অনেক অভিভাবক হয়তো স্কুল খোলার সঠিক দিনক্ষণ সম্পর্কে সচেতন ছিলেন না।
২. পড়াশোনার অভ্যাসে ছেদ: টানা ১৫ দিন স্কুল বন্ধ থাকায় এবং ভোটের আবহে পড়াশোনার স্বাভাবিক ছন্দ ও ধারাবাহিকতা নষ্ট হয়েছে।
৩. গাফিলতির প্রশ্ন: স্কুল কর্তৃপক্ষের প্রচার বা অভিভাবকদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনে কোনও ফাঁক রয়ে গিয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও উঠছে।
কী বলছেন কর্তৃপক্ষ?
রামচন্দ্রপুর হাইস্কুলের টিআইসি শুভজিৎ সাহা জানিয়েছেন, “দীর্ঘদিন পর স্কুল খুললেও ছাত্রছাত্রীদের উপস্থিতি প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম। নির্বাচন ও ছুটির কারণে পড়াশোনার ধারাবাহিকতায় ভাঙন এসেছে। আমরা দ্রুত স্বাভাবিক ছন্দ ফেরাতে অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ করছি।” অন্যদিকে, তপন গার্লস হাইস্কুলের টিআইসি কুহেলি গুপ্তাও প্রথম দিনের এই নগণ্য উপস্থিতিতে হতাশা প্রকাশ করেছেন।
শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ভোটের কারণে বারবার স্কুল বন্ধ রাখা এবং লম্বা ছুটি পড়ুয়াদের মানসিকতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এখন দেখার, চলতি সপ্তাহের বাকি দিনগুলোতে উত্তরবঙ্গের এই স্কুলগুলো আবার কবে ছাত্রছাত্রীদের কলকাকলিতে মুখরিত হয়ে ওঠে।
প্রতিবেদক: স্বাধীন মানব দাস।