বিশ্বের দরবারে ভারতের দাপট! সামরিক ব্যয়ের নিরিখে চিন-আমেরিকার পরেই প্রথম পাঁচে ভারত

স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট বা ‘সিপ্রি’ (SIPRI)-র সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বিশ্বজুড়ে সামরিক খাতে ব্যয়ের এক চাঞ্চল্যকর চিত্র উঠে এসেছে। ২০২৫ সালে ভারত তার প্রতিরক্ষা খাতে ৯২.১ বিলিয়ন ডলার খরচ করে বৈশ্বিক তালিকার পঞ্চম স্থানটি ধরে রেখেছে। গত বছরের তুলনায় ভারতের এই ব্যয় বৃদ্ধির হার প্রায় ৮.৯ শতাংশ। বর্তমানে বিশ্বের মোট সামরিক ব্যয়ের ৩.২ শতাংশই খরচ করছে ভারত। তালিকায় ভারতের আগে রয়েছে কেবল আমেরিকা, চীন, রাশিয়া এবং জার্মানি।
প্রতিরক্ষা কৌশলে আমূল পরিবর্তন
সিপ্রির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, চীন এবং পাকিস্তানের সাথে দীর্ঘস্থায়ী সীমান্ত উত্তেজনা ভারতের এই বিশাল সামরিক ব্যয়ের প্রধান কারণ। বিশেষ করে ‘অপারেশন সিন্দুর’ পরবর্তী সময়ে যুদ্ধপ্রস্তুতির অংশ হিসেবে জরুরি ভিত্তিতে অস্ত্র ক্রয় ভারতের বাজেটকে প্রভাবিত করেছে। ভারত বর্তমানে সামরিক আমদানির ক্ষেত্রে রাশিয়ার ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে ফ্রান্স, ইসরায়েল এবং আমেরিকার দিকে ঝুঁকছে। যদিও রাশিয়া এখনও ভারতের বৃহত্তম অস্ত্র সরবরাহকারী দেশ হিসেবে টিকে আছে। সরকারের ২০২৬ সালের বাজেটেও ৭.৮৫ লক্ষ কোটি টাকা প্রতিরক্ষার জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে, যা আধুনিকায়নের স্পষ্ট ইঙ্গিত।
আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রভাব
ভারতের প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে চীন ৩৩৬ বিলিয়ন ডলার খরচ করে বিশ্বের দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছে। অন্যদিকে, পাকিস্তান তার সামরিক ব্যয় বাড়িয়ে ১১.৯ বিলিয়ন ডলার করলেও বৈশ্বিক তালিকায় তাদের অবস্থান ৩১তম। বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে ইউরোপীয় দেশগুলোর সামরিক ব্যয় রেকর্ড ১৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৮৬৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। বিশেষ করে কানাডা ও পোল্যান্ডের মতো ন্যাটোভুক্ত দেশগুলো নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যয়ের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়িয়েছে। এই প্রবণতা দক্ষিণ এশিয়াসহ বিশ্বজুড়ে এক নতুন অস্ত্র প্রতিযোগিতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এক ঝলকে
- সামরিক ব্যয়ে বিশ্বে ভারতের বর্তমান অবস্থান পঞ্চম।
- ২০২৫ সালে ভারতের মোট প্রতিরক্ষা ব্যয় ৯২.১ বিলিয়ন ডলার, যা পূর্বের চেয়ে ৮.৯ শতাংশ বেশি।
- ভারত বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অস্ত্র আমদানিকারক দেশ।
- চীন ৩৩৬ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করে তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে।