সস্তায় মিলছে ৫জি ডেটা, তাই ১০ টাকার ভাউচারেও অনীহা; পাবলিক ওয়াই-ফাই নিয়ে চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট ‘ট্রাই’-এর

ভারতে গণ ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কের কাঙ্ক্ষিত বিস্তার না হওয়ার পেছনে ব্যবহারকারীদের ‘বিনামূল্যে’ পরিষেবা পাওয়ার প্রবল আকাঙ্ক্ষাকে দায়ী করেছে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ট্রাই। সোমবার প্রকাশিত এক পরামর্শ পত্রে সংস্থাটি জানিয়েছে, গ্রাহকদের এই মনস্তাত্ত্বিক অবস্থান জনসাধারনের জন্য তৈরি ওয়াই-ফাই হটস্পটগুলোর বাণিজ্যিক স্থায়িত্বকে সংকটে ফেলছে। বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে ৫ বা ১০ টাকার সামান্য বিনিময়ে ওয়াই-ফাই ভাউচার কিনতেও দ্বিধা করছেন অধিকাংশ গ্রাহক।
মোবাইল ডেটার সস্তা দর ও বাজার চ্যালেঞ্জ
ট্রাই-এর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, দেশে ৪জি এবং ৫জি মোবাইল ডেটার অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক এবং সস্তা দাম গ্রাহকদের মানসিকতায় আমূল পরিবর্তন এনেছে। সাধারণ মানুষ এখন ইন্টারনেট সংযোগকে প্রায় শূন্য খরচের পণ্য হিসেবে বিবেচনা করতে শুরু করেছেন। মোবাইল ডেটা ব্যবহারের সহজলভ্যতা এবং আগ্রাসী মূল্য নির্ধারণের ফলে পেইড বিজনেস মডেলের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা ওয়াই-ফাই হটস্পট প্রদানকারীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও ট্রাই-এর পদক্ষেপ
এই সংকট কাটিয়ে উঠে ভারতে গণ ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কের প্রসার কীভাবে বাড়ানো যায়, তা নিয়ে অংশীজনদের মতামত জানতে চেয়েছে ট্রাই। সংস্থাটি মনে করছে, যতক্ষণ না পর্যন্ত পেইড মডেলগুলো ব্যবসায়িকভাবে লাভজনক হচ্ছে, ততক্ষণ এই খাতের বিনিয়োগ ও পরিকাঠামো উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে আগামী ২৫ মে-র মধ্যে নিজেদের মন্তব্য এবং ৮ জুনের মধ্যে পাল্টা মন্তব্য জমা দেওয়ার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
এক ঝলকে
- ট্রাই-এর মতে বিনামূল্যে ইন্টারনেট পাওয়ার মানসিকতা গণ ওয়াই-ফাই প্রসারের অন্যতম অর্থনৈতিক বাধা।
- ৪জি ও ৫জি ডেটার সস্তা দামের কারণে গ্রাহকরা সামান্য মূল্যেও ওয়াই-ফাই ভাউচার কিনতে আগ্রহী নন।
- এই পরিস্থিতি পেইড বিজনেস মডেলে পরিচালিত হটস্পট প্রদানকারীদের বাণিজ্যিক অস্তিত্বকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে।
- সমস্যা সমাধানে ট্রাই ২৫ মে-র মধ্যে সংশ্লিষ্ট মহলের মতামত আহ্বান করেছে।